
শালবনি 21 সে সেপ্টেম্বর :
ইতিমধ্যে তিন লিংকম্যানের পাঁচ দিনের সিআইডি হেফাজত হয়েছে। এবার এই তিনজন লিঙ্কম্যানের মধ্যে অমিত ঘোষ নামে একজনকে নিয়ে এলাকায় ঘোরালো সিআইডি টিম। যদিও এদিন এলাকায় গিয়ে খতিয়ে দেখা হয় কোথায় কোথায় জমি দেখানো হতো, কি কি দামে বিক্রি হত, কাদের ই বা বিক্রি করা হতো সেই জমি? আগামী ২৪ শে সেপ্টেম্বর এদের সবাইকে তোলা হবে মেদিনীপুর আদালতে এই জমি মামলায়।

উল্লেখ করা যায়, তৃণমূল সরকার বদলের পর রাজ্যে ক্ষমতায় আসে বিজেপি সরকার, মুখ্যমন্ত্রী হন শুভেন্দু অধিকারী।আর সরকার বদলের পরে গত ৫ই জুন শালবনীর বাসিন্দা শেখ ইমরান এই মর্মে অভিযোগ করেন যে জমি বিক্রির নাম করে তৎকালীন তৃণমূলের জেলা সভাপতি তথা বিধায়ক সুজয় হাজরা তার কাছ থেকে ১০ লক্ষ টাকা নেয়। তিনি এও অভিযোগ করেন, বারবার বলা সত্ত্বেও তিনি চুক্তিপত্র বা কোন এগ্রিমেন্ট সই করেনি তৎকালীন তৃণমূলের জেলা সভাপতি তথা প্রাক্তন বিধায়ক। বারবার বলা সত্বেও টাকা ফেরত দেয়নি তৃণমূলের এই নেতা। অভিযোগকারীর এও দাবি, এই নিয়ে বারবার কথা বলতে গেলে তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।যদিও পরবর্তীকালে তিনি জানতে পারেন তাকে যে জমিগুলো বিক্রি হয়েছে সেগুলোর রায়ত নয়, সেগুলো সরকারি জমি,তাকে ভুল কাগজ দিয়ে বিক্রি করেছে তৃণমূলের জেলা সভাপতি। জমির রেকর্ড পরিবর্তন করে তাকে বিক্রি করেছিল তৃণমূলের এই নেতা।

যদিও পালা বদলের পরেই শালবনি থানায় অভিযোগ জানান শালবনির বাসিন্দা ইমরান খান। তারপরেই পুলিশ তদন্তে নেমে তৃণমূল নেতা সুজয় হাজরাকে খড়্গপুর রেল স্টেশন থেকে গ্রেফতার করে। এরপরেই সুজয়কে জেরা করে নাম উঠে আসে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের। এরপর তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। অবশেষে গত ১০ ই সেপ্টেম্বর কলকাতা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে সুমিত রায়কে। এরপরে ১১ ই সেপ্টেম্বর তাকে মেদিনীপুর আদালতে তোলা হয় এই শালবনী জমি দুর্নীতি মামলায়। যেই ঘটনায় আদালত তাকে আট দিনের সিআইডি হেফাজতে নির্দেশ দেন। যদিও পরবর্তীকালে এই জমির দুর্নীতিতে জমি দেখানো, টাকা পৌঁছানো সহ একাধিক কারসাজিতে যুক্ত আরও তিন লিংক ম্যানকে ধরে সিআইডি। তাদেরও সিআইডি হেফাজতে নির্দেশ দেয় মেদিনীপুর আদালত। গত ১৯ তারিখ সুমিত সহ তিন লিঙ্ক ম্যানকে আদালতে তোলা হলে তাদের পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেয় আদালত।

সিআইডি সূত্রে খবর,এদিন তাদেরই মধ্যে অমিত ঘোষ নামে একজন কে নিয়ে ঘটনাস্থলে যায় সিআইডি টিম। হোটেল পিকনিকের কাছে ঘোরানো হয়,ঘোরানো হয় সংশ্লিষ্ট জমি এলাকায়। উল্লেখ্য,তৃণমূল নেতা সুজয় হাজরার বিরুদ্ধে যে ধারাগুলোতে হয়েছে সেই ধারায় অভিযোগ করা হয়েছে এই সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে। যদিও শালবনি জমি দুর্নীতি মামলায় নাম জড়িয়েছে প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরা ঘনিষ্ঠ তিনজন লিঙ্ক ম্যান। তারা হলেন অমিত ঘোষ, নিত্যানন্দ রায় এবং লক্ষীকান্ত ভূঁইয়া।