
ডেবরা 3 রা অক্টোবর :
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ডেবরার ঘটনায় শোরগোল। দূর্নিতী এবং তোলাবাজির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে আক্রান্ত হলেন ডেবরা বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক শুভাশীষ ওম। তার অভিযোগ তার দলের কর্মীরাই তাকে হেনস্থা করে মারধর করেছে। এই ঘটনায় আক্রান্ত বিধায়ক ডেবরা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে মাথায় ব্যান্ডেজ নিয়ে ভর্তি হন অপরদিকে এই ঘটনার পরেই ডেবরা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের হাজির হন বিজেপির ঘাটাল সাংগঠনিক জেলার সভাপতি তন্ময় দাস।তিনি জানান এই ধরনের ঘটনা আমার জানা নেই। হাসপাতালে দেখলাম তিনি সুস্থ রয়েছেন। তবে দলের কিছু থাকলে সেটা প্রকাশ্যে না এনে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করাটাই কাম্য। যদিও পরে এই বিধায়ক কে রেফার করা হয় মেদিনীপুরে। পরে ৬ জন দলীয় কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা করলেন বিধায়ক।

এবার খোদ নিজের এলাকা ডেবরাতে আক্রান্ত হল বিজেপি বিধায়ক, অভিযোগের তীর তারই দলের জেলা সভাপতির অনুগামীদের দিকে, যা নিয়ে উত্তেজনা জেলা শহরে। বিজেপি সূত্রে জানা যায়, এদিন ডেবরার বিডি অফিসে কাজের তদারকিতে যান ডেবরার বিধায়ক শুভাশিস ওম। ওখানে গিয়ে কিছু অভিযোগ শোনেন এবং সেই অভিযোগ সংক্রান্ত নিয়ে তিনি যখন থানায় আসেন সেই সময় থানার বাইরেই বেশ কিছু দুষ্কৃতী ঘিরে ধরে এবং স্লোগান দেওয়ার পরেই তাকে মারধর করা হয়। অভিযোগ এরা প্রত্যেকেই ঘাটাল সাংগঠনিক বিজেপি জেলা সভাপতি তন্ময় দাসের অনুগামী। এরপরই উভয় পক্ষের লোক জড়ো হয় শুরু হয় গন্ডগোল।যদিও পরে পুলিশ প্রশাসন এসে তা থামিয়ে দেয়। এই ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হন, আহত হন ডেবরার বিজেপি বিধায়ক শুভাশিষ ওম খোদ নিজে। এরপরে তড়িঘড়ি তাকে ডেবরা হসপিটালে ভর্তি করা হয় ,ভর্তি করা হয় তার কর্মীদের। কিন্তু অবস্থার অবনতি হলে তাকে নিয়ে আসা হয় মেদিনীপুর একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে।

এরপরই তাকে দেখতে এই নার্সিংহোমে ছুটে আসেন বিজেপির নেতৃত্ব সহ মেদিনীপুরের বিধায়ক ও সাংগঠনিক নেতৃত্বরা। যদিও শুভাশিস ওম এবং তার অনুগামীদের দাবি, এই ঘটনার জন্য প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে দায়ী ঘাটাল সাংগঠনিক বিজেপি জেলা সভাপতি তন্ময় দাস। যদিও বিজেপি ঘাটাল সাংগঠনিক জেলা সভাপতি তন্ময় দাসের অভিযোগ তিনি এ ঘটনা সম্পর্কে কিছুই জানেন না তিনি খোঁজখবর নিতে এসেছেন। জেলা ও রাজ্য নেতৃত্বকে জানিয়েছি। সূত্রের খবর যারা বিধায়কের ওপর হামলা চালিয়েছে তারা জেলা সভাপতি তন্ময় দাস ঘনিষ্ঠ। অপরদিকে জেলা সভাপতির বেশ কয়েকজন মার খেয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। সব মিলিয়ে অবশেষে ডেবরা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল চত্তরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।পরিস্থিতি সামাল দিতে ডেবরা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে হাজির হয় ডেবরা এস ডি পি ও এবং ডেবরা থানার ওসি সহ পুলিশ বাহিনী। এই ঘটনায় শেষ পর্যন্ত ৬ জন দলীয় কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করলেন বিধায়ক খোদ নিজে।

এই বিষয়ে ডেবরা বিধায়ক শুভাশিস ওম বলেন,” আমাদের কর্মীরা একটা গন্ডগোলের জেরে একে অপরের বিরুদ্ধে কেস করতে যায়। সেটাই মিটাতে গিয়েছিলাম। কারণ আমরা একই পতাকার কর্মী। সেই সময় তাদের মধ্যে একটা শ্রেনী আমার ওপর চড়াও হয়।তারা আমাদের দলেরই লোক। মূলত তোলাবাজির বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই।”

অন্যদিকে ঘাটাল বিজেপি জেলা সভাপতি তন্ময় দাস বলেন,” বিষয় টা জানা নেই ভালো ভাবে জেনে বলতে পারবো। কোথায় কী তোলাবাজি হয়েছে বলতে পারবো না। কিছু কিছু জায়গা থেকে অভিযোগ এসেছে সেটাই পার্টির কেউ কেউ যুক্ত আছে কি না বলতে পারবো না প্রেসের সামনে। একটু যুক্তি দিয়ে বলেন আজ যখন হাসপাতালে এলাম তখন সবাই হেঁটে চলে বেড়াচ্ছিলেন কিন্তু আপনারা সাংবাদিকরা আসতেই চিত্র বদলে গেল।দেখলাম মেডিকেলে লাইন পড়ে গেছে। পার্টির কর্মীরা ভোট দিয়ে বিধায়ক করেছি। ইন্টারনাল বিষয় নিজেরাই মিটিয়ে ফেলতে পারতেন।”

অন্যদিকে ঘাটাল বিজেপি যুব মোর্চার ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রহ্লাদ চক্রবর্তী বলেন,”এই ঘটনা ঘটিয়েছে বিজেপি জেলা সভাপতি ও তার অনুগামীরা। আমাকে খোদ হাসপাতালে মারতে যায় ওরা। আমরা পুরো বিষয় নিয়ে ওপর মহলে জানিয়েছি। “
যদিও ডেবরার এক পুলিশ আধিকারিক বলেন ঘটনা একটা ঘটেছে যা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনায় অভিযোগ জমা পড়েছে খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।