Midnapore Police : মাদকদ্রব্যের বিরুদ্ধে বড় অভিযানে উদ্ধার দেড় কোটি টাকার মাদক, নগদ চার লক্ষ পঁয়ষট্টি হাজার টাকা দুজন গ্রেপ্তার

Share

মেদিনীপুর 6 ই নভেম্বর :

মেদিনীপুরে ফের বড়সড় মাদক চক্রের হদিশ। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে রাতভর অভিযান চালিয়ে মেদিনীপুর শহরের বড় আস্তানা এলাকার থেকে বিপুল পরিমাণ হেরোইন উদ্ধার করল পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পুলিশ। উদ্ধার করা হলো কয়েক লক্ষ টাকা। মাদক পাচার চক্র জড়িত থাকায় গ্রেপ্তার করা হলো দুজনকে। ধৃতদের নাম সেক রাজেশ ও সেক শরিফুদ্দিন। ঘটনায় চাঞ্চল্য মেদিনীপুরে।

দীর্ঘ কয়েক বছর ধরেই জেলা জুড়ে রমরমিয়ে চলছিল মাদক ব্যবসা এবং সেই মাদক ব্যবসা রীতিমত বাড়িতে বসে পুরিয়া বানিয়ে ছোট ছোট ছেলে এবং কিশোরদের দিয়ে বাইরে পাচার করা হতো, পৌঁছে দেওয়া হতো কাস্টমারকে আর তার বদলে জুটতো লক্ষ লক্ষ টাকা। এই খবর পুলিশে আসার পরে নড়েচড়ে বসে জেলা পুলিশ। ডিস্ট্রিক্ট ইনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ এর উদ্যোগে এবং জেলা পুলিশের অভিযানে শেষ পর্যন্ত শহরের বড় আস্তানা এলাকায় একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সেই সঙ্গে শেখ শারিফুদ্দিন(৩৫) এবং শেখ রাকেশ নামে (২৮) নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয় ৩৭৫ গ্রাম হেরোইন যার বাজার মূল্য প্রায় দেড় কোটি টাকা, সেই সঙ্গে উদ্ধার হয়েছে নগদ চার লক্ষ পঁয়ষট্রি হাজার টাকা। সেইসঙ্গে ৫২ গ্রাম গোল্ড উদ্ধার হয় যার বাজারে আনুমানিক মূল্য ৮ লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা। এবং রুপো উদ্ধার হয়েছে ২০০ গ্রাম যার বাজার মূল্য ৪০ হাজার টাকা। এই বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য এবং সোনা গয়না উদ্ধার হওয়াতে খুশি জেলা পুলিশ। এদিন ধৃতদের মেদিনীপুর আদালতে তুলে সাত দিনের নিজেদের হেফাজতে নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে নতুন করে। এদিন রাত্রে সাংবাদিক বৈঠক করে যাবতীয় তথ্য তুলে ধরেন জেলা পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা।

এ বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার বলেন,”আমাদের কাছে খবর আসে যে জেলা শহরে একটি মাদক পাচার চক্র কাজ করছে। আমরাও এ খবর পেয়ে অভিযানে নামে আমাদের পুলিশের পুরো টিম। শহরের বড় আস্তানার কাছে শেখ সাব্বির নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে অভিযানে নেমে সেখান থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকার মাদক এবং বাহান্ন গ্রাম সোনা ২০০ গ্রাম রূপো এবং এই দুজনকে গ্রেফতার করেছি আমরা। এছাড়াও ৪ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকার নগদ ক্যাশ উদ্ধার হয়েছে ওই বাড়ি থেকে। উল্লেখ করে বলেন এর আগে কোতোয়ালী আইসি একটা অভিযানের নেমে কিছু মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেছিল কিন্তু এত বড় যে পাচার চক্র চলছে তা আমরা বুঝতে পারিনি। আমরা সাত দিনের পুলিশি হেফাজতে নিয়েছি অভিযুক্তদের। যার বাড়ি সে পলাতক তাই এদের এই চক্রের পেছনে আর কারা কারা কাজ করছে বা কারা কারা জড়িত সেই নিয়ে আমরা তদন্ত শুরু করেছি। আমরা জেলার মানুষের কাছে আবেদন জানাবো এই ধরনের তথ্য থাকলে আমাদের শেয়ার করুন। আমরা কোন ধরনের মাদকদ্রব্য পাচার বা মাদকদ্রব্য কারবার এই জেলা শহরে করতে দেব না।”

এই দিনের সাংবাদিক বৈঠকের মধ্য দিয়ে যাবতীয় তথ্য জানান জেলা পুলিশ সুপার। যদিও তিনি বলেন জেলা শহরে কোন ধরনের চক্র কাজ করতে দেওয়া যাবে না। এই নিয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ জেলা পুলিশ।


Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *