SUCI এর AIKKMS প্রতিবাদ মিছিলে সংস্কৃতি রক্ষা মঞ্চের হনুমান চল্লিশা চালিয়ে প্রতিবাদ! উত্তেজনা মেদিনীপুর কালেক্টরেটে

Share

মেদিনীপুর 5 ই সেপ্টেম্বর :

SUCI এর AIKKMS প্রতিবাদ মিছিলে সংস্কৃতি রক্ষা মঞ্চের হনুমান চল্লিশা চালিয়ে প্রতিবাদ,ডিম ছোঁড়ার অভিযোগ, উত্তেজনা মেদিনীপুর কালেক্টরেটে মধ্যস্থতায় পুলিশ প্রশাসন। এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ। AIKKMS নেতৃবৃন্দের অন্যদিকে সংস্কৃতি মঞ্চের দাবি, যতদিন না ওদের নেতা প্রকাশ্যে এসে ক্ষমা চাইবেন ততদিন তাদের বিক্ষোভ অব্যাহত থাকবে। সমস্ত মিটিং মিছিল অবস্থানে এই হনুমান চল্লিশা চালিয়ে বিক্ষোভ চলবে।

লাল ঝাণ্ডার মিছিলে হনুমান চল্লিশা চালিয়ে প্রতিবাদ হিন্দুত্ববাদী সংগঠন সংস্কৃতি রক্ষা মঞ্চ মেদিনীপুর নগর, যা ঘিরে উত্তেজনা মেদিনীপুর শহরে। মূলত এদিন বাম শরিক SUCI কৃষক সংগঠন (এল ইন্ডিয়া কিষাণ ক্ষেতমজুর সংগঠন(AIKKMS) পক্ষ থেকে এস আই আর সংক্রান্ত সেইসঙ্গে সারের দাম বৃদ্ধির রোধ,কিষান ক্ষেতমজুরদের ন্যায্য পাওনা দাবি-দাওয়া সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে একটি বিক্ষোভ মিছিল এবং বিক্ষোভ সমাবেশ ছিল জেলা কালেক্টরেটে। কর্মসূচি অনুযায়ী এইদিন মিছিলের পর কালেক্টরেটের বাইরে বসে তারা বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন এখানকার নেতৃবৃন্দ ও কর্মী সমর্থকরা। ঠিক কিছুক্ষণ পরই সেই মিছিলের মধ্যে প্রতিবাদ করতে মাইক নিয়ে ছুটে আসে মেদিনীপুরের হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ‘সংস্কৃতি রক্ষা মঞ্চ মেদিনীপুর নগর’ এদিন তারা এবং তাদের সদস্যরা একটি টোটো গাড়িতে মাইক বেঁধে এই বিক্ষোভ মিছিলে ঢুকে পড়ে। এরপর তারা হনুমান চল্লিশা মাইকে চালিয়ে প্রতিবাদ করতে থাকে। বাম নেতাদের বিরুদ্ধে স্লোগান সেইসঙ্গে তাদের বিক্ষোভ মিছিল থেকে উঠে যাওয়ার স্লোগান দেওয়া হয়।

যদিও এই সংগঠন থেকে ডিমও ছোঁড়া হয় বলে অভিযোগ এই SUCI এর AIKKMS এর বিক্ষোভ সমাবেশ অবস্থানে। এরপর পুলিশ চলে আসে এবং নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে। এই সংস্কৃতি মঞ্চের সদস্যদের দাবি ছিল,সম্প্রতি কিছুদিন আগে বাম শরিক সিপিআই এক মঞ্চ সভা থেকে তাদের ভগবান শ্রীরাম চন্দ্রের শিষ্য হনুমানজির নামে উল্টোপাল্টা মন্তব্য এবং কটুক্তি করেন এক সিপিআই নেতা। যে ঘটনায় তারা থানায় অভিযোগও জানিয়েছেন গ্রেফতারের কিন্তু পুলিশ এখনো পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি এবং ক্ষমা চাননি ওই সিপিআই নেতা। তাই তারা ঠিক করেছেন CPI এবং বামেদের যত বিক্ষোভ মিছিল, মিটিং হবে সেখানে এসে তারা বিক্ষোভ দেখাবে। ততদিন পর্যন্ত যতদিন না তারা প্রকাশ্যে ক্ষমা চান। যদিও এ ঘটনা উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, দু পক্ষের মধ্যে স্লোগান পাল্টা স্লোগানে উত্তপ্ত হয়ে উঠে জেলা কালেক্টরেট। এরপরই পুলিশের বিরাট বাহিনী ছুটে আসে। তারা দুজনকেই থামিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আর এরই মধ্যে বিক্ষোভে অবস্থানরত এই AIKKMS নেতৃত্ববৃন্দ তারাও বিক্ষোভ সমাবেশ বন্ধ করে পাড়ি দেয় গন্তব্যস্থলে।

এই নিয়ে AIKKMS নেতৃত্ব প্রভঞ্জন জানা বলেন, “আমাদের কর্মসূচি অনুযায়ী আমরা বিক্ষোভ সমাবেশ করছিলাম সেই সময় হিন্দুত্ববাদী সংগঠন এসে আমাদের উপর হামলা চালায়, আমাদের বিরুদ্ধে মাইকের স্লোগান দেয়, আমাদের অবস্থান বিক্ষোভ পন্ড করে দেয়। পুলিশের বিরাট বাহিনী থাকা সত্ত্বেও তারা নীরব দর্শক ভূমিকা ছিল, তারা কোন কিছুই ব্যবস্থা নেয় নি। এর আগেও আমরা আমাদের দাবি দাওয়া নিয়ে বারে বারে অভিযোগ জানিয়েছি, আবেদন করেছি তারও কোন সূরাহা হয়নি। আজকে পুলিশ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সবকিছু দেখেছে, দর্শকের ভূমিকায়। তাই এই হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের পাশাপাশি পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ রইলো।”

যদিও অন্যদিকে এই হিন্দুত্ববাদী সংগঠন সংস্কৃতি রক্ষা মঞ্চ মেদিনীপুর নগর সদস্য বলেন,’ বিগত সিপিএম আমলে এবং তৃণমূলের আমলে আমরা দেখেছি এই বাম নেতা-নেত্রী বৃন্দ আমাদের হিন্দুদের বিভিন্ন দেবদেবী সম্পর্কে কুরুচিকর মন্তব্য মন্তব্য করার। সম্প্রতি সিপিআই এর এক সভা থেকে সিপিআই নেতা আমাদের বজরংবলীর বিরুদ্ধে কুরুচিকর মন্তব্য করে যে ঘটনা আমরা প্রতিবাদ করেছি এবং পুলিশে অভিযোগ করেছে কিন্তু তারপরও তিনি অ্যারেস্ট হননি তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ প্রশাসন। তাই আমরাও ঠিক করেছি যতদিন না ওই নেতা প্রকাশ্যে এসে ক্ষমা চাইবেন এবং আমাদের হিন্দুদের দেবদেবী সম্পর্কে কুরুচিকর মন্তব্য বলা বন্ধ করবেন ততদিন আমরা ওদের সভা মিটিং মিছিল এবং অবস্থান বিক্ষোভে আমরা হনুমান চল্লিশা চালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করব এবং প্রতিবাদ করবো।’

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগেই সিপিআই এর এক সভা থেকে হিন্দুদের দেবদেবী বজরংবলির নামে কুরুচিকর মন্তব্য করেন এক সিপিআই নেতা যে ঘটনার জেরে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে মেদিনীপুরে। যদিও তারপর থেকেই সিপিআই ,সিপিএম সহ কো-অর্ডিনেশন কমিটির অফিসের সামনে হনুমান চল্লিশা চালিয়ে বিক্ষোভ এই মঞ্চের তরফ থেকে। এইদিন কর্মচারী ভবনে কো-অর্ডিনেশন কমিটির অফিসে ঢুকে ফ্লেক্স ছেঁড়া এবং বার করে এনে আগুন ধরিয়ে দেওয়ারও অভিযোগ উঠে এই সংগঠনের বিরুদ্ধে।


Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *