Midnapore Bam Avijan : অভিযান ছিল পুলিশ সুপার অফিস কিন্তু সভায় বক্তব্য দিয়ে ফিরে গেল মীনাক্ষী! কারণ কী,’পাল্টা হনুমান চল্লিশার পাঠ’

Share

মেদিনীপুর 6 ই অক্টোবর :

সকাল থেকে পুলিশ গার্ডরেল দিয়ে দুর্গ বানিয়ে হতাশ হয়ে ফিরে গেলেন পুলিশ কর্মীরা। এসপি অফিস চত্বরে বামপন্থী দলসমূহের আহবানে এসপি অফিস অভিযান ঘিরে কড়া প্রস্তুতি জেলা পুলিশের। মূলত জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ, এস আই আর স্থগিত,সমস্ত ন্যায্য ভোটারের নাম বহাল, সেইসঙ্গে জেলা জুড়ে বিজেপি দুষ্কৃতীদের হামলা, অফিস দখলের প্রতিবাদ এবং পুলিশের মিথ্যা মামলা রদের দাবিতে এসপি অফিস অভিযান বামেদের। যদিও এই অভিযানে স্বভাব সিদ্ধ ভাষায় বক্তব্য রেখে মঞ্চ থেকে ফিরে গেলেন নেত্রী মীনাক্ষী মুখার্জি।

সকাল থেকে টান টান উত্তেজনা, কড়া অ্যাকশনে জেলা পুলিশ। গার্ডরেল এবং বোর্ড দিয়ে বড় বড় পাঁচিল তুলে দিয়ে পুলিশ সুপারের দপ্তরের ১০০ মিটাতের মধ্যে ঢাল তৈরি করে জেলা পুলিশ প্রশাসন। কয়েকশো পুলিশ কর্মীর সঙ্গে তাবড় তাবড় অফিসার এবং জল কামানের ব্যবস্থা করা হয়। আন্দোলনকারীদের প্রতিরোধ করতে তিন ফেজে গার্ড গড়ে তোলা হয়। সেই সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে মোকাবিলার জন্য একাধিক ব্যবস্থা নেওয়া হয় পুলিশের তরফ থেকে। পুলিশ সুপার অফিস বানিয়ে ফেলা হয় অভেদ্য দুর্গ। এমনকি সাংবাদিকদের ফ্লুরোসেন্ট কালারের জ্যাকেট পরিয়ে দেন পুলিশ প্রশাসন। একটাই কারণ বামেদের এসপি দপ্তর অভিযান। কারণ এর আগে দেখা গেছে বামেরা যখন কোন অভিযান করেছে তখন পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির ব্যাপক ছবি দেখা গিয়েছে,সেই সঙ্গে মারধর লাঠিচার্জ এমনকি জল কামানের দিয়ে জল দেওয়ার ছবি দেখা গিয়েছে বিগত দিনে । সেক্ষেত্রে সাংবাদিকরা ও আক্রান্ত হয়েছে একাধিক জায়গায়। ফলে এই দুর্গ ভেদ করে কোনভাবেই মাছি না গলতে পারে এমন কড়া ব্যবস্থা রেখেছিল জেলা পুলিশ।

অন্যদিকে এই বামেদের এই অভিযানে অংশ নিয়েছিল সিপিআইএম, সিপিআই, আরএসপি, ফরওয়ার্ড ব্লক, সিপিআইএমএল এবং SUCI কমিউনিস্ট দল সহ বামেদের শরিক দলগুলি। কিন্তু অবাক বিষয় দেখা গেল এ দিন যার জন্য এত আয়োজন সেই মিছিল শেষ পর্যন্ত এসপি অফিসের সামনে গিয়ে সভা মঞ্চে থেমে গেল। মঞ্চ থেকে স্বভাব সিদ্ধ ভাষায় বক্তব্য রেখে মীনাক্ষী ফিরে গেলেন অভিযান থেকে। এই দিন পুলিশের গার্ডরেল পর্যন্ত বাম কর্মীদের স্পর্শ করতে দেখা গেল না। যা নিয়ে ধন্দ রাজনৈতিক মহলে। এর কারণ রহস্য অজানা। যদিও এই নিয়ে নেতাদের মধ্যে যেমন ফিসফাস ছিল তেমনি গুঞ্জন শোনা গিয়েছিল কর্মী সমর্থকদের মধ্যে। অনেকেই নিচ থেকেই স্লোগান দিয়েছিল,’৩০ সেকেন্ড সময় দিন আমরা দেখে নেব।’ কিন্তু নেতৃত্বরা কোনভাবেই চাপ নিতে রাজি হননি। যদিও রাজনৈতিক মহলের মতে কয়েক দিন ধরে যেভাবে হিন্দুত্ববাদী সংগঠন গুলি হনুমান চল্লিশা পাঠ করিয়েছে, সেই সঙ্গে বিভিন্ন সভামঞ্চে, প্রতিবাদ মিছিলে পাল্টা হনুমান চল্লিশা পাঠের সঙ্গে বিক্ষোভ দেখিয়েছে তাতে পিছু হটেছে কমরেডরা।

তাছাড়া সংস্কৃত মঞ্চ তরফ থেকে পার্টি অফিসগুলো ভাঙচুর এবং ফেস্টুন,ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে নেতাদের মারধরের ঘটনায় কিছুটা ব্যাকফুটে গিয়েছে এই বামেরা। এমনকি SUCI কমিউনিস্ট দল যারা আন্দোলনে নামলে পুলিশ তাদেরকে চ্যাংদোলা করে পর্যন্ত নিয়ে যায় এবং সেই ক্ষেত্রে মামলা গড়ায় হাইকোর্ট পর্যন্ত এখানেও তাদেরও কোনো মুভমেন্টে দেখা যায়নি। কেবলমাত্র তর্জন-গর্জন ছিল সিপিআইএম জেলা সম্পাদকের, তাও আবার সভা মঞ্চ থেকে বক্তব্যে। অন্য কোন পার্টির নেতা নেতৃত্বই কোনোভাবেই এই দিন হুল ফোটাতে পারেনি তাদের বক্তব্যে। ফলে সারাদিন ধরে আন্দোলনের ছবি করতে এসে কিছুটা হতাশ হয়ে ফিরে গেলেন সাংবাদিকরাও। যদিও বক্তব্য রাখতে গিয়ে মীনাক্ষী মুখার্জি দাবি করেন, ‘আজকে কেবলমাত্র আমরা পুলিশকে জানাতে এসেছিলাম। যেদিন মানুষ পুলিশের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলার মনোভাব নেমে সেই দিনে আমরা প্রতিরোধ গড়ে তুলব।

তা সম্পূর্ণ আন্দোলনে সামিল হবে জনসাধারণ।এই ধরনের মন্তব্য করেই সভামঞ্চ থেকে তিনটের আগেই বিদায় নেন কেন্দ্রীয় কমিটির মেম্বার,নেত্রী মীনাক্ষী মুখার্জী ।


Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *