
মেদিনীপুর 11 ই অক্টোবর:
পূর্ব ভারতে বায়ুমণ্ডলীয় গবেষণা ও উপগ্রহ তথ্য যাচাইকরণের ক্ষেত্রে আরেকটি মাইলফলক স্থাপন করলো বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় এইদিন দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে NRSC- ISRO-র যৌথ সহযোগিতায় একটি উন্নত GPS-Aided রেডিওসোন্ড পেলোড সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে।

ভারতীয় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ (Airport Authority of India) থেকে প্রয়োজনীয় NOTAM এবং কলাইকুন্ডা ডিফেন্স এভিয়েশন থেকে আকাশসীমা ব্যবহারের আনুষ্ঠানিক ছাড়পত্র গ্রহণের পর সম্পূর্ণ নিরাপত্তা বিধি মেনে এই উৎক্ষেপণ সম্পন্ন হয়। ISRO-র ন্যাশনাল রিমোট সেন্সিং সেন্টার (NRSC)-এর সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণা সহযোগিতার আওতায় এই অভিযান পরিচালিত হয়। এই অভিযানের সূচনা করেন মউপাচার্য অধ্যাপক দীপক কুমার কর এবং নিবন্ধক ড. জয়ন্ত কিশোর নন্দী। এই বিষয়ে উপাচার্য বলেন, “NRSC- ISRO-র মতো জাতীয় সংস্থার সঙ্গে এই যৌথ উদ্যোগ পরিবেশ ও বায়ুমণ্ডলীয় বিজ্ঞানে বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘমেয়াদী অঙ্গীকারের প্রতিফলন। এই ধরনের পর্যবেক্ষণ আবহাওয়া গবেষণা, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার পূর্বাভাস এবং উপগ্রহ ডেটা ক্যালিব্রেশনে সরাসরি জনকল্যাণমূলক ভূমিকা রাখবে।”এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ড. কাকলি কর।

সমগ্র এই অভিযানের পরিকল্পনা, সমন্বয় ও তত্ত্বাবধানে ছিলেন CES-এর অধিকর্তা ড. যতিশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়।গ্রাউন্ড স্টেশন ইন্টিগ্রেশন,সেন্সর ক্যালিব্রেশন, RF লিঙ্ক সিঙ্ক্রোনাইজেশন, প্রাক-উড্ডয়ন পরীক্ষা এবং বেলুন উৎক্ষেপণের সম্পূর্ণ কারিগরি দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক – সৌম্যকান্তি পন্ডা ও অভীক সাহা, চিন্ময় খাঁড়া, রালী হাঁসদা, শম্ভুনাথ জানা,প্রতীক দে। তাঁদের তত্ত্বাবধানে সম্পূর্ণ উড্ডয়নের রিয়েল-টাইম টেলিমেট্রি নির্ভুলভাবে সংগ্রহ করা হয়।এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পরিবেশবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কার্তিক বেরা, রিমোট সেন্সিং ও জিআইএস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক অমৃত কামিল্যা এবং অনিমেষ মাজি সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষক ও কর্মীবৃন্দ।এই পেলোডে 200 গ্রামেরও কম ওজনের একটি লাইটওয়েট সেন্সর ও টেলিমেট্রি সিস্টেম ব্যবহার করা হয়, যা 800 গ্রামের ল্যাটেক্স আবহাওয়া বেলুনের সাহায্যে ট্রপোস্ফিয়ার অতিক্রম করে স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে প্রায় 29.4 কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত পৌঁছায়।

পরবর্তীতে প্রায় 44.09 কিলোমিটার অনুভূমিক পথ অতিক্রম করে পেলোডটি প্যারাসুটের মাধ্যমে নিরাপদে ঈশ্বরীপুর এর নিকটে ভূপৃষ্ঠে অবতরণ করে।
পেলোড থেকে প্রাপ্ত তথ্য:
১. বায়ুমণ্ডলীয় চাপ
২. দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল থার্মিস্টরের মাধ্যমে বায়ুর তাপমাত্রা (±০.২ K নির্ভুলতায়)
৩. হিউমিক্যাপ সেন্সরের মাধ্যমে আপেক্ষিক আর্দ্রতা
৪. GPS ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে ত্রিমাত্রিক বায়ুপ্রবাহের গতি ও দিক
এই সমস্ত তথ্য 1200 বড রেটে 401-403 MHz আন্তর্জাতিক আবহাওয়া ব্যান্ডে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশনে সরাসরি প্রেরিত হয়।

এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ISRO-র INSAT-3D / 3DR উপগ্রহের 19 -চ্যানেল সাউন্ডার ডেটার সত্যতা যাচাই, দক্ষিণবঙ্গে কালবৈশাখীর মতো তীব্র ঝড়ের পূর্বাভাসের জন্য থার্মোডাইনামিক অস্থিরতা ও উইন্ড শিয়ার বিশ্লেষণ এবং WRF/GFS আঞ্চলিক আবহাওয়া মডেলের নির্ভুলতা বৃদ্ধি করা। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই রেডিওসোন্ডটি সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং এতে কোনো ক্ষতিকারক রাসায়নিক বা বিস্ফোরক পদার্থ নেই।