
চন্দ্রকোনা 25 সে জুন :
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনা ১ নম্বর ব্লকের লক্ষীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের নারায়ণপুর গ্রামে রেশন কার্ড জালিয়াতির অভিযোগ ঘিরে শোরগোল। অভিযোগের তির এক সময়ের প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা দেবাশীষ ঘোষের দিকে।তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে সরব এলাকাবাসী,স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি এবার বাপ চুরি (বাবা) করেছে তৃণমূল নেতা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দেবাশীষ ঘোষের বাবা দুলাল ঘোষ মৃত। অভিযোগ, তা সত্ত্বেও বিগত কয়েক বছর ধরে দেবাশীষের রেশন কার্ডে “হেড অফ দ্য ফ্যামিলি” হিসেবে দেখানো হচ্ছে গ্রামেরই দরিদ্র বাসিন্দা সুকুমার ঘোষের নাম। সুকুমার ঘোষের পরিবারের দাবি, বিষয়টি তাঁরা কয়েক বছর আগেই রেশন ডিলারকে জানিয়েছিলেন। কিন্তু অভিযুক্ত নেতার প্রভাবের কারণে তখন কেউ পদক্ষেপ করেনি। সম্প্রতি বাড়ি বাড়ি আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের ফর্ম আসার পর দেবাশীষের মোবাইল নম্বরের জায়গায় সুকুমার ঘোষের নাম নথিভুক্ত থাকতে দেখে নতুন করে বিতর্ক দানা বাঁধে। এরপরই এলাকাবাসী এবং বিজেপি নেতাকর্মীরা সরব হন। তাঁদের অভিযোগ, “অপরের বাবার নামে সরকারি সুবিধা ভোগ করা” চরম দুর্নীতির নমুনা। অভিযুক্তের কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন তাঁরা।

এই ঘটনায় রেশন ডিলারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। তবে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে রেশন ডিলার। অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত দেবাশীষ ঘোষ বা তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্বের প্রতিক্রিয়া এখনও মেলেনি। প্রশাসনিক তদন্তের পরেই ঘটনার সত্যতা স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে কার্ড হোল্ডারের স্ত্রী মাধবী ঘোষ বলেন,” আমরা দীর্ঘদিন ধরে যখন রেশন তুলতাম তখন ওই দেবাশীষ টিপসই দিত, আর আমি টিপসই দিলে ও মাল তুলতো। কোনদিন কার্ড নিয়ে এত ইনকয়ারি হয়নি এবং যখন আমি দেবাশীষকে ফোন নাম্বার নিয়ে বলেছি তখন ও বলেছে যে তুমি তো মাল তো পেয়ে যাচ্ছ সমস্যা কোথায়। কিন্তু সম্প্রতি আয়ুষ্মান কার্ড করতে গিয়ে দেখা গেল যে আমার স্বামীর নাম ওর বাবার নামের জায়গায়। এবং আমাদের কার্ডে ওর ফোন নাম্বার রয়েছে। ও এলাকার একজন তৃণমূল প্রভাবশালী নেতা। তাই আমাদের অভিযোগ হয়তো শুধু আমার স্বামীর নামে নয়, এরকম গ্রামের বহু গরীব খেটে খাওয়া মানুষের নামে এই ধরনের রেশন কার্ড বানিয়ে সুবিধে নিয়েছে তৃণমূল নেতারা।”

এ বিষয়ে বিজেপি নেতা সুশীল ডোগরা বলেন,” এই দেবাশীষ ঘোষ তৃণমূল নেতা,পিয়ারলেসের ব্রাঞ্চ ম্যানেজার ছিলেন কোটি কোটি টাকা অথচ তিনি পদবী এক থাকায় একটি গরিব লোককে নিজের বাবা হিসেবে সাজিয়ে এতদিন ধরে রেশন ব্যবস্থার সুবিধা নিয়েছেন। সেই সঙ্গে এই রেশন কার্ডের দৌলতে তিনি আরো বাকি সব সুবিধা নিয়েছেন। তাই আমরা চাইছি উনার এতদিন যে উনি সুবিধা নিয়েছেন তার তদন্ত হোক এবং উনাকে এরেস্ট করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক। এখানকার তৃণমূল লোকের বাবাকেও চুরি করে।”

এ বিষয়ে রেশন ডিলার শক্তিপদ চৌধুরী বলেন,” আগে ওদের অন্য কার্ড ছিল পরে অন্যরকম কার্ড হয়ে যায়।আগে একসাথে ওরা রেশন নিত পরে ওরা ভাগে ভাগে করে নিয়ে যায়। এটা সম্পূর্ণ অফিসের ব্যাপার। উনি কিভাবে নাম পরিবর্তন করলেন,কিভাবে পেলেন সেটা অফিস বুঝবে, এটা আমার কিছু করার নেই। তবে আমাকে যদি কিছু জানতে চাই অফিস অবশ্যই আমি জানাবো।”