
মৌপাল 23 সে জুন :
মৌপাল দেশপ্রাণ বিদ্যাপীঠের বিজ্ঞান বিষয়ক পড়াশোনার ভাবনা শুরু হয় ২০১২ সালে। তখনও এই এলাকায় কোন বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান শাখা ছিল না। শালবনী ব্লকেও বিজ্ঞান বিভাগ খুব কম স্কুলে ছিল। কোন আগ্রহ তৈরি হয়নি শিক্ষার্থীদের মধ্যেও। ২০১০ সালে উচ্চমাধ্যমিক অনুমোদন, ২০১২ সালে বিজ্ঞান বিভাগের সূচনা।

মূলত বিদ্যালয়ের দুইজন মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীকে নিয়েই এই স্বপ্ন দেখা ও পথ চলা শুরু। শ্রেণিকক্ষ নেই, শিক্ষকের অপ্রতুলতা, পরিকাঠামোগত সমস্যা এসব কোনো বাধা হয়ে ওঠেনি। ছাত্রছাত্রীরা আজ বিশ্ব জয় করেছে। অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের মেধাবী ছাত্র অলক মাহাত এবং ছাত্রী রুম্পা মাহাত পরিবারের প্রথম প্রজন্মের শিক্ষার্থী। নিজেদের মেধা, জেদ, অধ্যবসায় ও প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা এবং শিক্ষক-শিক্ষিকাদের উৎসাহ তাদেরকে সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছাতে সাহায্য করেছে। আজ তারা প্রতিষ্ঠিত, বিদেশে গবেষণারত। স্বপ্নের সেই পথ চলা শুরু, ধীরে ধীরে প্রসারিত হয়েছে সেই পথ। বিজ্ঞান বিভাগে একাদশ দ্বাদশ শ্রেণীতে এখন বিদ্যালয়ে শতাধিক ছাত্র ছাত্রী। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ছয়টি বিদ্যালয়ে আইআইটি মাদ্রাজের অধ্যাপক ড .পীযূষ ঘোষের মস্তিষ্কপ্রসূত টিচ টু লার্ন (Teach To Learn) পরিচালিত ডিভাইস ইঞ্জিনিয়ারিং ল্যাব (DEL) প্রতিষ্ঠিত হয় ২০২৪ সালে।

প্রথমে শিক্ষার্থীদের ছোট ছোট যন্ত্রপাতির মাধ্যমে হাতে-কলমে বিজ্ঞান শিক্ষার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তাদের আগ্রহ ও উৎসাহ দেখে থ্রিডি প্রিন্টিং প্রযুক্তির পরিকল্পনা নেওয়া হয়। আজকের এই থ্রিডি প্রিন্টিং সম্মেলন এবং প্রদর্শনীর আয়োজক মৌপাল দেশপ্রাণ বিদ্যাপীঠ ছাড়াও শালবনি ব্লকের ভাদুতলা বিবেকানন্দ হাই স্কুল, গৌতম স্মৃতি সাতপাটি বীণাপাণি বিদ্যাভবন, পিড়াকাটা হাই স্কুল এবং গোদাপিয়াশাল চারুবালা বালিকা বিদ্যালয় সহ মেদিনীপুর শহরের বিদ্যাসাগর বিদ্যাপীঠ বালিকা বিদ্যালয়। দুই বছরের এই কর্মসূচির অন্তিম পরিকল্পনা এই থ্রিডি প্রিন্টিং সম্মেলন এবং প্রদর্শনী। মাদ্রাজ আইআইটির অ্যাপ্লায়েড মেকানিক্স বিভাগের অধ্যাপক ড. পীযূষ ঘোষের এই প্রকল্পটি যাতে মেদিনীপুর তথা পশ্চিমবঙ্গে প্রসারিত হয়, এই প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা কাজের দিশা পেতে পারে, বিজ্ঞানের প্রতি অনুসন্ধিৎসা এবং আগ্রহ বাড়ে সেই ভাবনা থেকেই এই অনুষ্ঠানের আয়োজন।

এইদিন উদ্বোধনী পর্বে শুভ সূচনা করেন মেদিনীপুর কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ তথা ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন অফ ফিজিক্স টিচার্সের অন্যতম কর্ণধার ড. গোপাল চন্দ্র বেরা এবং বিশিষ্ট অতিথি অমিত রায়, জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (মাধ্যমিক শিক্ষা) , প্রফেসর ফুয়াদ, পিএইচডি, এটাচি অফ এডুকেশন অ্যান্ড কালচার ,এমব্যাসি অফ দি রিপাবলিক অফ ইন্দোনেশিয়া এবং চন্দন বসু, সম্পাদক, ডিস্ট্রিক্ট চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ উপস্থিত ছিলেন। দ্বিতীয় পর্বে বিশিষ্ট আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইআইটি, বি এইচ ইউ অধ্যাপক ড. শান্তনু দাস এবং CERAMAT এর সিইও এবং এমডি সব্যসাচী রায় সৃজনশীল ও বিষয় উপযোগী বক্তব্যে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত ও উদ্বুদ্ধ করেন। উপস্থিত শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে ছয়টি বিদ্যালয়ের ছয়টি থ্রিডি প্রিন্টিং স্টল এর মাধ্যমে থ্রিডি প্রিন্টিং এ বিভিন্ন এপ্লিকেশন প্রদর্শিত হয়।

অংশগ্রহণকারী এবং আমন্ত্রিত বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আগ্রহ এবং উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এই সম্মেলন এবং প্রদর্শনী আগামী ২৫ জুন ২০২৬ পর্যন্ত এই চলবে।