
খড়গপুর 27 সে অক্টোবর :
কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা’ (CSR) উদ্যোগে উচ্চশিক্ষায় সহায়তার লক্ষ্যে তারা এক মেধাবী আদিবাসী তরুণীকে একটি ল্যাপটপ উপহার দিয়েছে খড়গপুরের ‘রশ্মি মেটালার্জিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি প্রাইভেট লিমিটেড’ (রশ্মি গ্রুপের একটি ইউনিট) এর।

উপকৃত এই তরুণীর নাম পল্লবী মুদি। তিনি খড়গপুরের কাছে অবস্থিত ‘আম্বা পশ্চিম (জাগাই)’ গ্রামের বাসিন্দা; তাঁর বাবার নাম প্রবীর মুদি। তিনি একটি দরিদ্র তফসিলি উপজাতি (ST) পরিবার থেকে এসেছেন, যেখানে আর্থিক সামর্থ্য অত্যন্ত সীমিত। সূত্র অনুযায়ী আম্বা পশ্চিম গ্রামে মূলত তফসিলি উপজাতি সম্প্রদায়ের মানুষের বাস। আর্থিক অনটন এবং সুযোগ-সুবিধার অভাবে এখানকার অধিকাংশ শিশু স্কুল পর্যায়ের পড়াশোনার পরেই পড়াশোনা ছেড়ে দেয়, উচ্চশিক্ষার পথে আর এগোতে চায় না। এমন প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও পল্লবী এক অনুপ্রেরণাদায়ক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। সমস্ত বাধা অতিক্রম করে তিনি কলকাতার কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইনফরমেশন টেকনোলজি’ (IT) নিয়ে বি.টেক (B.Tech) পড়ার সুযোগ পেয়েছেন এবং ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার দৃঢ় সংকল্প নিয়েছেন। পল্লবীর মেধা, নিষ্ঠা এবং আর্থিক প্রয়োজনের কথা বিবেচনা করে ‘রশ্মি গ্রুপ’ তাঁর পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়।এইদিন খড়গপুরে রশ্মি গ্রুপের কনফারেন্স হলে, সংস্থার এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ভাস্কর চৌধুরী অন্যান্য আধিকারিকদের উপস্থিতিতে পল্লবীর হাতে একটি ল্যাপটপ তুলে দেওয়া হয়।

এই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রশ্মি গ্রুপের কর্ণধার ভাস্কর চৌধুরী বলেন, “রশ্মি গ্রুপ বিশ্বাস করে যে, শিক্ষাই হলো একটি স্বনির্ভর সমাজের ভিত্তি। পল্লবী তাঁর গ্রামের অন্যান্য মেয়েদের কাছে এক আদর্শ উদাহরণ। যখন কোনো প্রত্যন্ত আদিবাসী গ্রামের মেয়ে ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন দেখার সাহস দেখায়, তখন সেই স্বপ্নকে সমর্থন জোগানো আমাদের দায়িত্ব। তাঁর এই শিক্ষাজীবনের অংশ হতে পেরে আমরা গর্বিত এবং তাঁর সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করি। আমাদের পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোতে শিক্ষার প্রসারে রশ্মি গ্রুপ ভবিষ্যতেও সহায়তা অব্যাহত রাখবে।” অন্যদিকে প্রবীর মুদি এবং তাঁর মেয়ে পল্লবী মুদি ‘রশ্মি গ্রুপ’-এর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তারা বললেন, “আমরা অত্যন্ত দরিদ্র পরিবার থেকে এসেছি। আইটি (IT) পড়াশোনার জন্য একটি ল্যাপটপ কেনা আমাদের পক্ষে খুবই কঠিন ছিল। রশ্মি গ্রুপ (Rashmi Group) কেবল একটি ল্যাপটপই দান করেনি, বরং আমার মেয়ের স্বপ্নকে ডানা দিয়েছে। এই উদার সহায়তার জন্য আমরা ভাস্কর স্যার, নাথ স্যার, নটবর স্যার এবং রশ্মি গ্রুপের কাছে অত্যন্ত কৃতজ্ঞ।”

উল্লেখ্য,রশ্মি গ্রুপ তার আশেপাশের গ্রামগুলোর সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে। তাদের কাজের মূল ক্ষেত্রগুলো হলো—শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং নারী ক্ষমতায়ন। তাদের মূলমন্ত্র হলো “শিক্ষায় সহায়তা, সমাজ গঠন এবং একটি সুন্দর আগামীর সৃষ্টি।”