Vidyasagar University : সহস্র কন্ঠে ‘বন্দে মা তরম’ এক বিরল দৃশ্য মেদিনীপুরের বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ে! দেড়শ বছর পূর্তিতে এই অভিনব আয়োজন

Share

মেদিনীপুর 14 ই আগস্ট :

বন্দে মা তরমের দেড়শ বছর পূর্তি আর তাই সহস্র কন্ঠে বন্দেমাতরম এর অনুষ্ঠানের আয়োজন পশ্চিম মেদিনীপুরের বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। আয়োজনে NSS সেল। একসঙ্গে স্কুল কলেজ এবং ইউনিভার্সিটির পড়ুয়ারা গাইলেন এই বন্দে মা তরম।

বন্দেমাতরামের দেড়শ বছর পূর্তি তাই এবার অভিনব উদ্যোগ নিল মেদিনীপুরের প্রথিতযশা বিশ্ববিদ্যালয় বিদ্যাসাগর ইউনিভার্সিটি। এদিন স্কুল-কলেজ সহ বিভিন্ন এনএসএস ডিপার্টমেন্টের পড়ুয়াদের নিয়ে সহস্র কন্ঠে বন্দেমাতরম অনুষ্ঠানের আয়োজন। যা বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মুকুটে নতুন পালক বলে মনে করছে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদরা। মূলত রাত ফুরোলেই স্বাধীনতা দিবস আর তাই রাজ্যে নতুন সরকার আসার পর থেকেই কেন্দ্র সরকারের যাবতীয় প্রকল্প গুলো যেমন বাস্তবায়িত করার চেষ্টা করছে সেই সঙ্গে দেশের সুনাম এবং দেশের শ্রীবৃদ্ধি চেষ্টায় তারা বিভিন্ন রকম কর্মসূচি নিচ্ছেন। রাজ্যের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিশ্ববিদ্যালয়গুলিও এক ও একাধিক দেশ হিতার্থে কর্মসূচি গ্রহণ করছে। এদিন তাই মেদিনীপুরের পুরানো ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাসাগর নামাঙ্কিত বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় এই অভিনব পন্থা বেছে নিলেন। তারা সহস্র কন্ঠে বন্দেমাতরমের অনুষ্ঠানের আয়োজন করলেন।

যে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য দীপক কর,মেদিনীপুরের বিধায়ক শংকর কুমার গুছাইত সহ বিশিষ্টজনেরা। এদিন প্রথমে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মূর্তির উন্মোচন হয়। এরপর জাতীয় পতাকা নিয়ে মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এরপর বিবেকানন্দ সভাগৃহে সকল পড়ুয়াদের নিয়ে সেই সঙ্গে স্টাফ সমস্ত কর্মী শিক্ষক-শিক্ষা কর্মীদের নিয়ে এই সহস্র কন্ঠে বন্দেমাতরম গানের আয়োজন করা হয়। যেখানে গানে গানে সুর মেলান এসব খুদে পড়ুয়া কলেজ পড়ুয়া সহ সকল শিক্ষক শিক্ষা কর্মীরা। আর তা নিয়ে উৎসাহ বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ে।

উল্লেখ্য, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত এই ‘বন্দে মাতরম’ গানটি ১৮৭৫ সালের ৭ নভেম্বর ‘বঙ্গদর্শন’ পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। যদিও পরবর্তীকালে ১৮৮২ সালে এটি তাঁর বিখ্যাত ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসে স্থান পায়। এরপর ১৮৯৬ সালে কংগ্রেস অধিবেশনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই গানে সুর দিয়ে প্রথম গানটি পরিবেশন করেন। ১৯৫০ সালে এটি ভারতের জাতীয় স্তোত্রের মর্যাদা লাভ করে। বন্দেমাতরমের রাজনৈতিক পরিচয় হিসেবে প্রকাশ ঘটে ১৮৯৬ সালে। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের কলিকাতা অধিবেশনে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই গানটি গান। স্বদেশী আন্দোলনে এর ভূমিকা অপরিসীম। ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনে এই গানটি সাধারণ মানুষের মুখে মুখে স্বাধীনতার স্লোগান ও মার্চিং সং-এ পরিণত হয়। যদিও পরবর্তীতে ব্রিটিশ আমলে ব্রিটিশ সরকার এই গান ও আনন্দমঠ উপন্যাসটি নিষিদ্ধ করেছিল।যদিও ১৯৫০ সালের ২৪ জানুয়ারি স্বাধীন ভারতের সংবিধান সভা ‘জনগণমন’কে জাতীয় সংগীত এবং ‘বন্দে মাতরম’-কে সমান মর্যাদায় জাতীয় স্তোত্র হিসেবে গ্রহণ করে।

এ বিষয়ে বিদ্যাসাগর বিদ্যালয়ের উপাচার্য দীপক কর বলেন,”আজকে আমরা সুন্দরভাবে সকলের উদ্যোগে এই ধরনের মহৎ একটি কাজ করতে পারলাম তার মধ্য দিয়েই আমরা স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আত্মত্যাগ কে সম্মান এবং শ্রদ্ধা জানালাম। আমাদের বার্তা এই যে দেশভাগ যার ফসল হলো আমাদের একটি পশ্চিমবঙ্গ। এই দেশভাগের ফলে যে অগণিত মানুষের কষ্ট বেদনা যন্ত্রণা নেমে এসেছিল তাকে স্মরণ করে ভবিষ্যতে অখন্ড ভারতবর্ষ এবং এক ভারতবর্ষ হওয়ার আহ্বান জানাই তরুন প্রজন্মের কাছে।”

অন্যদিকে মেদিনীপুরে বিধায়ক সংকর গুছাইত বলেন,”এই ধরনের ইউনিক উদ্যোগ ভারতের প্রতি আরো ভালোবাসা বাড়িয়ে দেয়, ভালোবাসা বাড়িয়ে দেয় তৎকালীন সময়ে আত্মহত্যাগ করা বিপ্লবীদের প্রতি। আমরা এ গানের মধ্য দিয়ে সেই সকল স্বাধীনতা সংগ্রামীদের শ্রদ্ধা জানাচ্ছি যারা আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে আমাদের স্বাধীনতা এসেছিল।”

যদিও এই গান গাইতে আসা পড়ুয়া নন্দিতা জানা বলেন,”এরকম ধরনের একটা মহৎ অনুষ্ঠানের আয়োজন করার জন্য আমাদের বিদ্যাসাগর ইউনিভার্সিটি কে অসংখ্য ধন্যবাদ। কারণ এই বন্দেমাতরমের স্রষ্টা কে সম্মান জানানো সেই সঙ্গের এই গানের বিকাশ ঘটানো একান্তই জরুরী।”অন্যদিকে সীমা দোলাই বলেন,”একসঙ্গে উপাচার্য বিধায়ক এবং আমরা সবাই শাস্ত্র কন্ঠে গানটা গাইতে পেরে খুবই খুশি এবং অসংখ্য ধন্যবাদ যারা আয়োজন করেছিলেন এই অনুষ্ঠানের এই ইউনিক ভাবনা চিন্তার।”


Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *