Elephant Dead : ধানজমিতে একসঙ্গে 3 হাতির মৃত্যু, প্রাথমিক তদন্তে বিদ্যুৎস্পৃষ্টের প্রমাণ! তদন্তে মেদিনীপুর বনবিভাগ

Share

পিড়াকাটা 27 সে সেপ্টেম্বর :

পশ্চিম মেদিনীপুরে ফের হাতির মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য।রবিবার সকালে পিড়াকাটা রেঞ্জের রঞ্জা বিটের হাড়তড়া এলাকায় ধানজমি থেকে উদ্ধার হয় দুটি শাবক সহ তিনটি হাতির মৃতদেহ। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ভিড় জমে যায় স্থানীয় বাসিন্দাদের।ঘটনার তদন্তে নামে মেদিনীপুর বনবিভাগ। ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক তদন্তের পর বনবিভাগের DFO জোন্স জাস্টিন জানান, প্রাথমিকভাবে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েই তিনটি হাতির মৃত্যু হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

পশ্চিম মেদিনীপুরে ফের হাতি মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল। এবার একই সঙ্গে মৃত্যু হল দুই শাবক হাতি এবং একটি পূর্ণবয়স্ক হাতির। ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার পিড়াকাটা রেঞ্জের রঞ্জা বিটের হাড়তড়া এলাকায়। রবিবার সকালে ধানজমিতে তিনটি হাতিকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর ছড়িয়ে পড়তেই ঘটনাস্থলে ভিড় জমাতে শুরু করেন এলাকার মানুষজন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বনদপ্তরের কর্মীরাও। তবে ঠিক কী কারণে তিনটি হাতির মৃত্যু হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে প্রাথমিকভাবে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অনুমান, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েই হাতি গুলির মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। কারণ, যে ধানজমিতে হাতিগুলিকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে, তার উপর দিয়ে বিদ্যুতের তার ঝুলতে দেখা গিয়েছে। বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, চাষের কাজে পাম্প চালানোর জন্য ওই ধানজমির উপর দিয়ে বিদ্যুতের তার নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেই তারে বিদ্যুৎ সংযোগের কারণেই হাতিগুলির মৃত্যু হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

যদিও এই মুহূর্তে হাতি মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিতভাবে জানায়নি বনদপ্তর। পিড়াকাটা রেঞ্জের এক বনকর্তা জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের পরই হাতিগুলির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। ইতিমধ্যেই মৃত হাতিগুলিকে উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে একসঙ্গে তিনটি হাতির মৃত্যুর ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই মন খারাপ এলাকার বাসিন্দাদের। মৃত হাতিগুলিকে দেখতে সকাল থেকেই ভিড় জমিয়েছেন বহু মানুষ। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে হাতি মৃত্যুর ঘটনা জঙ্গলমহলে আগেও ঘটেছে। ফলে এবারও বিদ্যুতের তারের ভূমিকা ছিল কি না, সেই প্রশ্নই এখন উঠছে।

এই বিষয়ে স্থানীয় বামাপদ দাস বলেন,”রাত্রে হাতিরা ব্যাপক গর্জন করছিল সবাই ভেবেছিল হয়তো হাতিগুলো উৎপাত করছে কিন্তু সকালে উঠে দেখি পরপর তিনটি হাতে শুয়ে রয়েছে কাছে গিয়ে দেখা যায় যে তিনটে হাতি মারা গেছে। খুবই দুঃখজনক ঘটনা। আমাদের অনুমান যে ইলেকট্রিক তারের বিদ্যুৎ শকে মারা গেছে এই তিনটি হাতি। এখানে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ টি হাতি আছে। বনদপ্তরের কাছে আবেদন করব হাতি তাড়ানোর জন্য তেল এবং যাবতীয় ইন্সট্রুমেন্ট যেন দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে হাতিগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সতর্ক নজর দেওয়া হয় সঙ্গে ইলেকট্রিক অবৈধভাবে গেছে সেগুলোকে সরানোর ব্যবস্থা করা হয়।

কার্তিক দেব সিংহ নামের স্থানীয় বলেন,’এ সময় বর্ষাকাল আর ইলেকট্রিক দিয়ে রেখেছে বৈদ্যুতিক দপ্তর। যার জন্যই এই দুর্ঘটনা। ১০-১৫ কিলোমিটার দূর থেকে গ্রামবাসীরা ছুটে এসেছে এই হাতির মৃত্যু দেখতে। যা খুবই মর্মান্তিক এবং বেদনাদায়ক। বনদপ্তর কে জানাবো তার জন্য সতর্ক ও সচেতন হয় এ বিষয়ে।’

বনবিভাগের DFO জোন্স জাস্টিন জানান, “প্রাথমিকভাবে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েই তিনটি হাতির মৃত্যু হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তিনি এও বলেন এখানে ইলেকট্রিক লাইন যে গিয়েছে তা অবৈধভাবে যদি এটা পেরা কাটা বন বিভাগের এক্তিয়া ভুক্ত নয়। তবে আমরা পুরো বিষয়টা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছি। খতিয়ে দেখা হচ্ছে পুরো কারণ।”

উল্লেখ্য,বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে এসে হাতিগুলির মৃত্যু যা প্রাথমিকভাবে অনুমান, সেই তারটি বৈধভাবে নেওয়া হয়েছিল, নাকি অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ করা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে বনবিভাগ সূত্রে জানানো হয়েছে। ঘটনাস্থলের ধানজমির উপর দিয়ে বৈদ্যুতিক তার ঝুলতে দেখা গিয়েছে। স্থানীয়দের অনুমান, ধানজমিতে চাষের কাজে পাম্প চালানোর জন্য ওই তার নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তবে সেই সংযোগের বৈধতা এবং হাতিগুলি ঠিক কীভাবে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হল, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে। একসঙ্গে তিনটি হাতির মৃত্যুর ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, ধানজমির উপর দিয়ে নেওয়া ওই বিদ্যুৎ সংযোগের নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথ ছিল কি না। বনবিভাগ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে।


Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *