
মেদিনীপুর 7 ই মে :
তৃণমূলের শহর সভাপতি বিশ্বনাথ পাণ্ডবের পর গতকাল রাতেই গ্রেফতার হয় তৃণমূলের জেলা সভাপতি, প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরা। পুলিশ সূত্র অনুযায়ী জমি মাফিয়া, তোলাবাজি সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে এই নেতার নামে। এতদিন গা ঢাকা দিয়ে বসে ছিল। এইদিন মেদিনীপুর কোর্টে তোলা হলে ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতের দাবি করে শালবনী থানার পুলিশ কিন্তু বিচারক আট দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন।

তৃণমূলের শহর সভাপতির পর এবার রাতেই পালানোর সময় অ্যারেস্ট হলেন পশ্চিম মেদিনীপুর সাংগঠনিক তৃণমূলের জেলা সভাপতি তথা প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরা। যা নিয়ে ফের নতুন করে চাঞ্চল্য জেলায়। পুলিশ সূত্র অনুযায়ী তিনি দীর্ঘদিন গা ঢাকা দিয়েছিলেন। এই তৃণমূলে নেতার বিরুদ্ধে জমি মাফিয়া তোলাবাজি এক্সটরশান সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এদিন তাকে শালবনী থানার পুলিশ খড়্গপুর স্টেশন থেকে গ্রেপ্তার করে। এরপর তাকে দীর্ঘক্ষণ বসিয়ে রাখা হয় শালবনি থানায়। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সরকার পরিবর্তনের পরেই গোটা রাজ্যজুড়ে তৃণমূলের ধরাশায়ী হয়েছে। একের পর এক ভিভিআইপি দাপুটে নেতা মন্ত্রী সাংসদ গ্রেপ্তার হয়েছে রাজ্যে। অভিষেকের নামেও অভিযোগ জমা পড়েছে। সিআইডি একাধিকবার নোটিশ ধরিয়ে এসেছে মমতা ব্যানার্জির নামেও। আর তা নিয়ে রীতিমতো ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন তৃণমূলীরা।

বাংলাদেশ পালানোর সময় গ্রেফতার করা হয়েছে তৃণমূলের দাপুটে নেতা শওকত মোল্লাকে। এবার পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলা সভাপতি প্রাক্তন বিধায়ক কে গ্রেফতার করা হলো রাতের বেলায়। যা নিয়ে ফের নতুন চাঞ্চল্য। কারণ এর আগে পশ্চিম মেদিনীপুরে কেশিয়াড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয় কল্পনা সিট নামে জেলা পরিষদের এক সদস্যা কে। যার বিরুদ্ধে বালি মফিয়ার টাকা তছরূপের অভিযোগ ছিল। অন্যদিকে তৃণমূল নেতা লক্ষ্মী শীট কেউ গ্রেফতার করা হয়েছে, গ্রেফতার হয়েছে চন্দ্রকোনা থেকে লক্ষ্মীর ভান্ডারের প্রাপক তৃণমূল নেতা উত্তম সাউ কে । পিংলা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বিধবা ভাতা হিসেবে প্রাপক এক ডাক্তারকে। এরপর সরাসরি তৃণমূলের জেলা সভাপতি গ্রেফতারের পর কারা কারা গ্রেফতার হবে? সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজ্য রাজনীতি?

যদিও এই দিন মেদিনীপুর কোর্টে সুজয় হাজরা কে তোলা হলে তাকে ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতের দাবী জানাই শালবনী থানার পুলিশ কিন্তু বিচারক সব শোনার পর ৮ দিনের পুলিশি হেফাজতে নির্দেশ দেয়। অন্যদিকে সুজয় হাজরা কে ডিম দিয়ে মারার জন্য প্রচুর মানুষ জড়ো হয় কিন্তু পর্যাপ্ত নিরাপত্তা কর্মী থাকায় ডিম মারতে অসফল হয় মানুষজন এবং বিজেপির লোকজন।

এই বিষয়ে জেলার পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা বলেন,” এই তৃণমূল নেতা এতদিন গা ঢাকা দিয়েছিলেন।এনার বিরুদ্ধে জমি মাফিয়া,তোলাবাজি সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। খড়গপুর স্টেশন থেকে গ্রেফতার করা হয়। বাকিটা তদন্ত করে করে দেখা হচ্ছে।”

অন্যদিকে বিজেপি বিধায়ক শংকর কুমার গুছাইত বলেন ” আইন আইন মাফিক চলবে।কারণ মেদিনীপুরের মানুষ জানে আগে সুজয় হাজরা কি ছিলেন এখন কি হয়েছেন! তাই প্রতিটা জায়গা থেকে পুলিশের কাছে কমপ্লেইন আসছিল। সেই অনুযায়ী হয়েছে। আমার একটাই দাবি ডিপ্রাইভ হওয়া মানুষ গুলো যেন বিচার পাই, আইন যেন আইনের পথে চলে।”