
দাসপুর 11 ই জুন :
স্কুল ছাত্রীদের সাথে অশ্লীল আচরণের অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষককে স্কুলের মধ্যে ঘেরাও করে তুমুল বিক্ষোভ অভিভাবক সহ গ্রামবাসীদের। ক্লাসের মধ্যেই চড় থাপ্পড় মারা হলো শিক্ষককে সেই সঙ্গে জুতোর মালা পরিয়ে বিক্ষোভ অভিভাবকদের। যদিও পাল্টা শিক্ষকের দাবি ছাত্রদের আদর করার জন্যই এই ধরনের পন্থা অবলম্বন এর সঙ্গে খারাপ কিছু করি না কিন্তু যেহেতু পালাবদল হয়েছে তাই রাজনৈতিক হিংসার শিকার আমরা।

এমনই ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার দাসপুর ২ নম্বর ব্লকের এরেটি নেতাজি প্রাথমিক বিদ্যালয়। অভিভাবক অভিযোগ সূত্রে জানা যায় এই বিদ্যালয়ের সহশিক্ষক স্বপন কান্ডার। এই অ্যাসিস্ট্যান্ট শিক্ষক বেশ কয়েকদিন ধরে স্কুলছাত্রীদের স্কুল ঘরের মধ্যে দরজা বন্ধ করে ছাত্রীদের শরীরের বিভিন্ন অশ্লীল জায়গায় হাত দেয়। সেই সঙ্গে দরজা বন্ধ করে মোবাইলে বিভিন্ন ভিডিও দেখানো হয়। পাশাপাশি
ছাত্রীদের ভয় দেখায় ঐ শিক্ষক যে তাদের অভিভাবকদের যেন না ঘটনাটা না জানায়। এই ঘটনা কয়েকদিন ধরেই চলতে থাকে স্কুলে। যদিও তাদের মধ্যে এক ছাত্রী পুরো ঘটনাটা তার বাড়িতে বলতেই পুরো এলাকা জানাজানি হয়ে যায়। ঘটনাটি জানাজানি হতেই এইদিন দাসপুরের এরেটি নেতাজী প্রাথমিক বিদ্যালয় ওই অভিযুক্ত শিক্ষক স্বপন কান্ডার কে ঘিরে স্কুলের মধ্যে আটকে রেখে তুমুল বিক্ষোভে ফেটে পড়ে অভিভাবক থেকে শুরু করে গ্রামবাসীরা।

ঐ শিক্ষককে চড় থাপ্পড়ের পাশাপাশি জুতোর মালা করে পরিয়ে দেওয়া হয়। এরই পাশাপাশি এই ধরনের অশ্লীল ঘটনা কেন ঘটাচ্ছে তারও কারণ জানার চেষ্টা করা হয়। অভিভাবক ও গ্রামবাসীদের অভিযোগ অবিলম্বে ওই শিক্ষকের উপযুক্ত ব্যবস্থা দিতে হবে।এ বিষয়ে এক অভিভাবক রাশমনি দলুই বলেন,’বলেন এই মাস্টার স্বপন কান্ডার ছাত্রীদের নিয়ে বাগানে বাগানে ঘুরে বেড়ান। এছাড়াও স্কুলের দরজা-জানলা বন্ধ করে লাইট নিভিয়ে মোবাইলে ভিডিও দেখিয়ে নানারকম অশ্লীল কাজকর্ম করেন। আমরা চাই এই ধরনের অসভ্য শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ইনি যেন কোথাও চাকরি না পান,সেই ব্যবস্থা করতে হবে। কারণ এনাকে এখান থেকে ট্রান্সফার করে অন্য বড় স্কুলে দিলে সেখানে বড় মেয়েদের সঙ্গে এই নোংরা কীর্তি করবেন।’

অন্যদিকে অভিযুক্ত শিক্ষক পাল্টা যুক্তি দেখিয়ে বলেন,”আমরা বয়স্ক শিক্ষক আমরা ছাত্রদের একটা আদর্শ নিয়ে ভালোবাসি। কিন্তু বর্তমানে রাজনৈতিক পালাবদলের পর আমরা যেহেতু তৃণমূল করি তাই আমাদের ফাঁসানোর জন্য রাজনৈতিক পরিস্থিতির শিকার হতে হচ্ছে। পাশাপাশি তিনি বলেন ছাত্রদের আদর করা যদি কারো কাছে দৃষ্টিকটু হয়ে থাকে তাহলে আমি সংবাদ মাধ্যমের কাছ থেকে সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। এই কাজ আগামী দিনে আর হবে না।”