
খড়গপুর 29 সে জুলাই :
ফের মৃত্যু খড়গপুর আইআইটি তে, এবার এক অধ্যাপকের দেহ উদ্ধার। এইদিন দুপুরে খড়গপুর আইআইটির ক্যাম্পাসের আবাসন থেকে উদ্ধার হল এক অধ্যাপকের ঝুলন্ত দেহ। মৃত অধ্যাপকের নাম দীপক রেড্ডি পুল্লাগুরাম। সূত্র অনুযায়ী হায়দরাবাদে বাড়ী বলে জানা গিয়েছে। তিনি খড়গপুর আই আইটির ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের একজন সহকারী অধ্যাপক ছিলেন। এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে আইআইটির অধ্যাপক মহলে। যদিও এই ঘটনায় তদন্ত করছে পুলিশ।

ফের আইআইটিতে মৃত্যু, বার বার সচেতন করেও রোখা যাচ্ছে না মৃত্যুকে যা নিয়ে নতুন করে চাঞ্চল্য ও উত্তেজনা সংশ্লিষ্ট এলাকায়। পুলিশ ও আইআইটি সূত্র অনুযায়ী, এইদিন দুপুরে খড়্গপুর আইআইটির ক্যাম্পাসের আবাসন থেকে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের একজন সহকারী অধ্যাপকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। মৃত অধ্যাপকের নাম দীপক রেড্ডি পুল্লাগুরাম(৩৫+) এই মৃত অধ্যাপকের বাড়ি সূত্র অনুযায়ী হায়দ্রাবাদে জানা যাচ্ছে। এই খবর পেয়ে খড়্গপুর টাউন থানার পুলিশ উপস্থিত হয় এবং মৃতদেহ উদ্ধার করে তদন্ত শুরু করেছে। সূত্র অনুযায়ী এও জানা যায় এই অধ্যাপক গত ২০২২ সাল থেকে আইআইটি তে যুক্ত আছেন। যদিও এ বিষয়ে আইআইটির বক্তব্য উনি কোন স্টুডেন্ট ছিলেন না তিনি ফ্যাকাল্টির একজন অধ্যাপক ছিলেন। কি কারনে মৃত্যু হয়েছে বলতে পারব না। তবে মনে হয় সম্পূর্ণ উনার ব্যক্তিগত এর সঙ্গে আইটির কোন সম্পর্ক নেই।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য,খড়গপুর আইআইটি তে এর আগে এক ও একাধিক ছাত্র-মৃত্যু ঘটেছে। গত ১৬ মাসে আইআইটি খড়্গপুরের ৯ জন পড়ুয়ার অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। গতবছর (২০২৫) আইআইটি খড়গপুরের সাত ছাত্রের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছিল। এর মধ্যে ৫ জনেরই ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছিল। প্রতিটি ক্ষেত্রেই আত্মহত্যার তত্ত্বে শিলমোহর দেয় পুলিশ। যদিও পড়ুয়া মৃত্যু নিয়ে
গতবছর জুলাই মাসে দায়িত্ব নেওয়ার পরই পড়ুয়াদের মানসিক স্বাস্থ্যের কথা ভেবে সেতু অ্যাপ, মাদার ক্যাম্পাস, নিয়মিত পরিদর্শনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন ডিরেক্টর সুমন চক্রবর্তী। তবে অধ্যাপকের মৃত্যু নিয়ে পারিবারিক কারণ কে সীল মোহর দেয় আইআইটি।

এ বিষয়ে খড়গপুর আইআইটি ডিরেক্টর সুমন চক্রবর্তী বক্তব্যে জানান ,” আই আই টি র ফ্যাকাল্টির এক অধ্যাপকের মৃত্যু হয়েছে এর সঙ্গে আইটির কোন যোগ নেই। উনি ২০২২ সাল থেকে আইটির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। সম্ভবত উনার পরিবার গত কোনো কারণে এই ঘটনা হতে পারে। এর সঙ্গে আইআইটির কোন প্রেসার কোন চাপ আছে বলে আমার মনে হয় না। আমরা জানতে পেরে পুলিশে খবর দিই,পুলিশ এসে মৃত উদ্ধার করে নিয়ে যায়। পাশাপাশি ডিরেক্টর এও বলেন IIT এর স্টুডেন্ট হলে তাদের পরামর্শ দেওয়া যায় তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করা যায়। কিন্তু যেহেতু উনি ফ্যাকাল্টির একজন অধ্যাপক তাই এই বিষয়ে কোনো সমস্যা ছিল বলে কোনোদিন জানা হয়নি বা ওনার সঙ্গে পরামর্শ করা যায়নি।

এ বিষয়ে জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বুশরা বানো এক বক্তব্যে জানিয়েছেন,”খড়্গপুর আই আই টি তে এক অধ্যাপক এর দেহ উদ্ধার হয়েছে। এই পুরো ঘটনার সরে জমিনে তদন্ত করা হচ্ছে। এখনো পর্যন্ত কিছু সঠিক কারণ জানা যায়নি। পুরো তদন্ত শেষ না হলে এই বিষয়ে সঠিক বলা সম্ভব নয়। এখন তদন্ত চলছে।