
মেদিনীপুর 26 সে সেপ্টেম্বর :
বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শ্রদ্ধায় স্মরণে ভাবগাম্ভীর্যে পালিত হলো ভারতের আধুনিকতার পথিকৃৎ পন্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ২০৭ তম জন্মশতবার্ষিকী। এই উদ্যাপনের অঙ্গ ছিল স্মৃতি-বক্তৃতা, বিদ্যাসাগর পুরস্কার প্রদান, বিদ্যাসাগর মিউজিয়াম উদ্বোধন প্রভৃতি। সেই সঙ্গে আজ বিশ্ববিদ্যালয়-ক্যাম্পাসে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী রিডার্স পার্কের উদ্বোধন, বিদ্যাসাগর রচনাবলীর চতুর্থখণ্ড ও চারটি ভাষায় তাঁর শকুন্তলা গ্রন্থ প্রকাশ এবং অন্নপূর্ণা চট্টোপাধ্যায় পুরস্কার প্রদান করা হয়।

এইদিনের এই অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন NITI আয়োগের মাননীয় সদস্য অধ্যাপক গোবর্ধন দাস। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইন্ডিয়ান মিউজিয়ামের অধিকর্তা ড. সায়ন ভট্টাচার্য ও মেদিনীপুরের বিধায়ক ড. শঙ্কর কুমার গুছাইত। উপস্থিত ছিলেন মেদিনীপুরের জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণা, জেলা পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা, বিজ্ঞান বিভাগের ডীন অধ্যাপক পরেশ্চন্দ্র জানা ও কলা বিভাগের ডীন অধ্যাপক অরিন্দম গুপ্ত ও রেজিস্ট্রার ড. জয়ন্ত কিশোর নন্দী। অনুষ্ঠানের পৌরহিত্য করেন উপাচার্য অধ্যাপক দীপক কুমার কর। উচ্চ শিক্ষামন্ত্রী বাংলার পুরানো গৌরব ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে নতুন সরকারের প্রচেষ্টার কথা জানান। উপাচার্য তাঁর বক্তৃতায় বিদ্যাসাগর কেন আজও আমাদের আদর্শ ও পথচলার পথিকৃৎ তা বলেন। বিদ্যাসাগর স্মৃতি-বক্তৃতায় অধ্যাপক গোবর্ধন দাস সমাজ-সংস্কারের পথে বিদ্যাসাগরের বাধা-বিঘ্ন অতিক্রমণের লড়াইয়ের দিকটি তুলে ধরেন।বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বিদ্যাসাগর পুরস্কার তুলে দেওয়া হয় গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য গোপালচন্দ্র মিশ্র ও কবি বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়কে।

অন্নপূর্ণা চট্টোপাধ্যায় পুরস্কার দেওয়া হয় ভারতীয় জাদুঘরের প্রাক্তন অধিকর্তা অধ্যাপক চিত্ত পন্ডাকে। বিদ্যাসাগরের প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারকে ছড়িয়ে দিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের এই উদ্যোগটি গুরুত্বপূর্ণ প্রয়াস হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।