
মেদিনীপুর 25 সে সেপ্টেম্বর :
বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদ্যাসাগরের অনুষ্ঠানে এসে এবার রাজনৈতিক মন্তব্য করলেন উচ্চ শিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়।রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংসের জন্য ৩৪ বছরের সিপিএমকে দায়ী করেন, দায়ী করেন তৃণমূলকে। তিনি বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক,পড়ুয়াদের কাছে হাতে জোড় করে আবেদন করেন,’এগিয়ে আসতে, অনুরোধ করেন বাংলা গড়ার শপথ নেওয়ার আবেদন করেন।’

মূলত এইদিন পণ্ডিত ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগরের ২০৭ তম জন্মদিবস উপলক্ষ্যে বিদ্যাসাগর স্মৃতি-বক্তৃতা ও পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। এই অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে এইদিন উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের উচ্চ শিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, নীতি আয়োগ সদস্য গোবর্ধন দাস। বিশেষ অতিথি হিসাবে ছিলেন ইন্ডিয়ান মিউজিয়াম অধিকর্তা ড.সায়ন ভট্টাচার্য, বিধায়ক শংকর কুমার গুছাইত, রমা প্রসাদ গিরি। এছাড়াও ছিলেন জেলার জেলা শাসক বিজিন কৃষ্ণ,পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা। পুরো অনুষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে ছিলেন বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য দীপক কর রেজিস্টার জয়ন্ত কিশোর নন্দী। এদিন মঞ্চ থেকেই এই বিশেষ পুরস্কারে ভূষিত করা হয় প্রফেসর গোপাল চন্দ্র মিশ্র, প্রফেসর বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায় ও প্রফেসর চিত্ত পান্ডা কে। সেই সঙ্গে এদিন মন্ত্রীর হাত ধরে শকুন্তলা ( বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ) এবং বিদ্যাসাগর রচনা সমগ্র (চতুর্থ খন্ড) প্রকাশ হয়। সেই সঙ্গে বিদ্যাসাগর মিউজিয়ামের উদ্বোধন ও ডক্টর শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী রিভার্স পার্কের উদ্বোধন হয় মন্ত্রীর হাত ধরে।

অনুষ্ঠান মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রথম থেকেই এতদিন ধরে বাংলার শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসের পেছনে কারা কারা ছিলেন কেনই বা তার ধ্বংস হওয়ার মুখে ছিল তা বক্তব্যে তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। তিনি বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিগত ৩৪ বছরের বাম সরকার এবং গত ১৫ বছরের তৃণমূল সরকারকে কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, ৩৪ বছরের সিপিএম করে, পরে তৃণমূলের চাদর পরে বাংলার বামপন্থীরা ‘জয় বাংলা জয় বাংলা ‘স্লোগান দিয়ে গোটা রাজ্যটাকে রসাতলে পাঠিয়েছে। এই ভয়ংকর পরিস্থিতিতে একমাত্র আশা ভরসা হল এই বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া অধ্যাপক এবং আগামী দিনের ভবিষ্যৎরা। যারা পড়াশোনা করে দেশের ভবিষ্যৎ রক্ষার্থে এগিয়ে আসবে এবং বাংলার ভবিষ্যৎ সঠিক পথে নিয়ে যাবে। যদিও এরপর বিদ্যাসাগর সম্বন্ধে বলতে গিয়ে বলেন, আমার ভাষণের পর বিভিন্ন পন্ডিত প্রবরদের কথায় বিদ্যাসাগর বিশ্লেষণ আপনারা শুনবেন।’ পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে অংশগ্রহণ কারী অধ্যাপকদের উদ্দেশ্যে বলেন, এই রকম মঞ্চ থেকে আমার এরকম বক্তব্য তথাকথিত অধ্যাপক কুলের ভালো লাগতে নাও পারে কিন্তু কখন তো আমাদেরকে ‘সাদা কে সাদা আর কালোকে কালো’ বলতে হবে।তাই তিনি শিক্ষক ও ছাত্রদের উদ্দেশ্যে বলেন, এই বদলে যাওয়া বাংলার নতুন শিক্ষা মন্ত্রী হিসাবে আপনাদের করজোড়ে অনুরোধ করছি, এই প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনুন। সেই সঙ্গে নব রূপে বিদ্যাসাগর কে গড়ে তুলে আশেপাশের আর কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেন্টার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করুন এবং অনেক বিদ্যালয়ের গাইডিং ফোর্স হিসাবে এগিয়ে চলুক।

মূলত এইদিন নানাবিধ কর্মসূচি নিয়ে বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন উচ্চ শিক্ষা মন্ত্রী। তবে প্রাকৃতিক পরিবেশ খারাপ থাকায় অনুষ্ঠান দেরিতে হয় বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ে।