
মেদিনীপুর 1 লা অক্টোবর :
৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের উদ্যোগে ঋষি রাজনারায়ণ বসুর ২০০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে একটি বিশেষ একাডেমিক আলোচনার আয়োজন।এই অনুষ্ঠানে ‘Rajnarayan Basu as a Pioneer of the Study of Religion’ শীর্ষক বক্তৃতা প্রদান করেন জার্মানির Georg-August-Universität Göttingen-এর Religious Studies and Intercultural Studies বিভাগের চেয়ার অধ্যাপক Julian Strube।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক কৌষিকী দাশগুপ্ত তার স্বাগত বক্তব্যে রাজনারায়ণ বসুর বিশ্বজনীন ধর্ম ভাবনার তাৎপর্য তুলে ধরেন। তিনি এই প্রসঙ্গে অধ্যাপক Strube -র বিদ্যাচর্চার মূল্যবান দিকগুলি উপস্থাপিত করে অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন। কলা ও বাণিজ্য অনুষদের অধ্যক্ষ বরিষ্ঠ অধ্যাপক অরিন্দম গুপ্ত বিশিষ্ট বক্তা অধ্যাপক Julian Strube-কে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান ও এই আলোচনা সভাটির গুরুত্ব বর্ননা করেন। অনুষ্ঠানটির সফল বাস্তবায়নে ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. দেবযানী দাস গুরুত্বপূর্ণ ও আন্তরিক সহযোগিতা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
অনাকাঙ্ক্ষিত প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে অনুষ্ঠানটি নির্দিষ্ট সভাগৃহের পরিবর্তে বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তাঙ্গন অংশে অনলাইন অনুষ্ঠিত হয়। এই একাডেমিক আলোচনায় উত্তর ও দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষকদের পাশাপাশি বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী, গবেষক ও গবেষণারত শিক্ষার্থীরা উৎসাহের সঙ্গে অংশগ্রহণ করেন।

তাঁদের সক্রিয় ও আন্তরিক অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানটিকে আরও প্রাণবন্ত এবং অর্থবহ করে তোলে।তাঁর মননশীল বক্তৃতায় অধ্যাপক Julian Strube ধর্মের অধ্যয়নের ইতিহাসে রাজনারায়ণ বসুর অবস্থান ও অবদানকে একটি তুলনামূলক দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে বিশ্লেষণ করেন। তিনি রাজনারায়ণ বসুর ধর্মচিন্তা, বৌদ্ধিক অনুসন্ধান এবং চিন্তাভাবনাকে বৃহত্তর ঐতিহাসিক পরিপ্রেক্ষিতে স্থাপন করেন। বিশেষভাবে তিনি বিশ্বব্যাপী ধর্মের ইতিহাস নির্মাণে অ-পাশ্চাত্য সমাজ ও বৌদ্ধিক পরম্পরার সক্রিয় ভূমিকার ওপর আলোকপাত করেন। তাঁর বক্তব্য রাজনারায়ণ বসুর ধর্মবিষয়ক চিন্তা ও অবদানের নতুন কিছু দিক উন্মোচিত করে এবং ধর্মের বৌদ্ধিক ইতিহাসকে আরও বিস্তৃত ও বহুমাত্রিক দৃষ্টিতে বোঝার সুযোগ করে দেয়।বক্তৃতার পর একটি প্রাণবন্ত প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশগ্রহণকারীরা তাঁদের আগ্রহ ও কৌতূহল থেকে নানা প্রশ্ন উত্থাপন করেন। অধ্যাপক Strube অত্যন্ত আন্তরিকতা ও উৎসাহের সঙ্গে প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দেন এবং আলোচনাটিকে আরও সমৃদ্ধ করে তোলেন।

এইদিনের সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন অধ্যাপক একটি ইতিবাচক, মননশীল ও বৌদ্ধিকভাবে সমৃদ্ধ পরিবেশে সমাপ্ত হয়। এই অনুষ্ঠানকে সফলভাবে আয়োজন ও সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক দীপক কুমার করের উদার উৎসাহ ও নিরন্তর সহযোগিতার জন্য ইতিহাস বিভাগ গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।অনুষ্ঠানটির প্রস্তুতির বিভিন্ন পর্যায়ে ইতিহাস বিভাগের সমস্ত শিক্ষকগণ , বিশেষত বিভাগীয় প্রধান গৌতম চন্দ রায়ের সক্রিয় অংশগ্রহণ বিশেষভাবে স্মরণযোগ্য।ঋষি রাজনারায়ণ বসুর চিন্তা, অনুসন্ধিৎসা ও বৌদ্ধিক উত্তরাধিকারের প্রতি এই আয়োজন ছিল এক গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি এবং একই সঙ্গে তাঁর অবদানকে নতুন প্রজন্মের গবেষক ও শিক্ষার্থীদের কাছে পুনরায় তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রয়াস।