Ajit Maity Arrest : লক্ষ লক্ষ টাকা টাকার বদলে তৃণমূলের বড় পদ! গ্রেপ্তার হওয়া তৃণমূল নেতা অজিত মাইতির চার দিনের পুলিশি হেফাজত

Share

পিংলা 25 সে সেপ্টেম্বর :

তৃণমূলে ব্লক সভাপতি করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ১৫ লক্ষ টাকা চাওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার তৃণমূল নেতা প্রাক্তন বিধায়ক, মুখ্যমন্ত্রীর স্নেহধন্য জেলা সভাপতি অজিত মাইতি। এইদিন মেদিনীপুর আদালতে তোলা হলে চার দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেয় আদালত। অভিযোগ পুরোপুরি মিথ্যা বলে দাবি অজিত মাইতির আইনজীবীর। অন্যদিকে সরকারি আইনজীবী বলেন যথেষ্ট প্রমাণ আছে, তাই বেল রিজেক্ট হয়েছে।

এবার গ্রেপ্তার হলেন একসময়ের মেদিনীপুরের দোদণ্ড প্রতাপ নেতা, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্নেহধন্য বিধায়ক, ঘাটাল সাংগঠনিক জেলার তৃণমূলের জেলা সভাপতি অজিত মাইতি। এদিন তাকে ভোরবেলায় গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর নিয়ে আসে ডেবরা থানায়। তার বিরুদ্ধে
দলে বড় পদ পাইয়ে দেওয়ার নাম করে টাকা তোলার অভিযোগ রয়েছে।সূত্র অনুযায়ী জানা যায় পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বর্তমান বিজেপির ঘাটাল সাংগঠনিক জেলার সহ সভাপতি গোবিন্দ দাসকে তৃণমূল জমানায় ব্লক সভাপতি করে দেবে বলে ১৫ লক্ষ টাকা চেয়ে বসেন। সেই টাকা না দিতে পারায় তার দায়িত্ব থাকা পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর বারবার চাপ দেওয়া হয় ১৫ লক্ষ টাকার জন্য। যেই ঘটনায় এতবছর পর অভিযোগ হয়। যেই অভিযোগের ভিত্তিতে এইদিন অজিত মাইতি কে গ্রেফতার করা হয়। এদিন তাকে গ্রেফতার করার পরে ডেবরা থানা নিয়ে আসা হয় সেখান থেকে মেদিনীপুর আদালতে নিয়ে আসা হয়। এদিন সরকারি আইনজীবী পুলিশি পাঁচ দিনের পুলিশে হেফাজতের আবেদন করেন। বিচারক সব শোনার পর চার দিনের পুলিশে হেফাজতের নির্দেশ দেন। অন্যদিকে এই ঘটনায় অভিযোগকারী গোবিন্দ দাস বর্তমানে বিজেপির পদে রয়েছেন। এই বিষয়ে যদিও তিনি সংবাদমাধ্যমের কাছে মুখ খুলতে রাজি হননি। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, অজিত মাইতি জেলা সভাপতি থাকাকালীন ছিলেন জেলা পরিষদের সহ-সভাপতি সেই সঙ্গে পিংলার বিধায়ক। রাজনৈতিক মহলে এও জানা যায় এই অজিত মাইতি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একমাত্র কাছের বিধায়ক ছিলেন। তাই এলাকায় তার যথেষ্ট প্রভাব ছিল।

এই বিষয়ে বিজেপির ঘাটাল সাংগঠনিক জেলা সভাপতি তন্ময় দাস বলেন,’ যেমন কর্ম তেমন ফল। শুনেছি ২০১৬ সালে উনি তৃণমূলের কোন নেতার কাছে বড় পদ পাইয়ে দেওয়ার জন্য ১৬ লক্ষ টাকা নিয়েছিলেন পরে তিনি তা ফেরত দেননি এবং তারই অভিযোগে এই অজিত মাইতি গ্রেফতার হয়েছে। তবে যে গোবিন্দ দাস পদ পাইয়ে দেওয়ার নামে অভিযোগ করেছেন তিনি বর্তমানে বিজেপিতে, যোগ দিয়েছেন ২০১৯ সালে। ২০১৬ সালে তিনি তৃণমূলে ছিলেন বলে জানান এই বিজেপি জেলা সভাপতি।”

অন্যদিকে এই নিয়ে অভিযুক্ত অজিত মাইতি জানান এটা রাজনৈতিক কারন। আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই,আমার পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আস্থা আছে।

এইদিন আদালতে নিয়ে এসে বছর হওয়ার পর সরকারি আইনজীবী নাজিম হাবিব বলেন,”বড় পদ পাইয়ে দেওয়ার নাম করে সেই সময় তৃণমূল নেতা জেলা সভাপতি অজিত মাইতি এই গোবিন্দ দাস নামে এই মানুষটির কাছে ১৫ লক্ষ টাকা দাবি করে। তিনি টাকা দিতে না চাওয়ায় তার বাড়ি তৈরি করা বন্ধ করে দেন তিনি। এরপর জোর করেই তার কাছ থেকে পনেরো লক্ষ টাকা নেওয়া হয়। যদিও কোন পদ দেওয়া হয়নি। এই মামলায় আজকে তৃণমূল নেতা অজিত মাইতি কে পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন করা হয়েছিল পুলিশের তরফ থেকে। চার দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেয় আদালত।”

অন্যদিকে অজিত মাইতির আইনজীবী মৃণাল চৌধুরী বলেন,” যেই গৌতম দাস অভিযোগ করেছেন যে তৃণমূল নেতা অজিত মাইতি সভাপতি থাকাকালীন তাকে ব্লক সভাপতি করার জন্য ১৫ লক্ষ টাকা চেয়েছিলেন আমাদের বক্তব্য হলো সেই সময় কাগজ-কলমে অজিত মাইতি জেলা সভাপতি ছিলেন না। সে সময় জেলা সভাপতি ছিলেন তৃণমূলের দিনেন রায়। তাছাড়া যে কারণে উনি ১৫ লক্ষ টাকা দিয়েছিলেন সেই টাকা উনাকে ফিরিয়েও দেওয়া হয়েছে হাতে হাতে। তাই এই অভিযোগের কোন ভিত্তি নেই। উনি বলছেন উনি নাকি এতদিন মামলা করতে পারেননি ভয়ে, তা বিজেপি সরকার আসার পাঁচ মাস পর মামলা করতে পারলেন কিভাবে এটাও আমাদের প্রশ্ন। আজ বিচারক সব শোনার পর চার দিনের পুলিশি হেফাজতে নির্দেশ দেন যদিও আমাদের বেলের আবেদন রিজেক্ট হয়েছে।”

তবে এই বিষয়ে জেলার পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা বলেন,” এই তৃণমূলের নেতা অজিত মাইতি বিজেপি নেতা গোবিন্দ দাস কে বড় পদ পাইয়ে দেওয়ার নাম করে ১৫ লক্ষ টাকা নিয়েছিলেন। যেই টাকা না দেওয়ার ফলে উনি সেই সময় যে পদে ছিলেন সেই পদ থেকেও তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়। সেই মামলায় মূলত এ তৃণমূল নেতাকে আজকে আদালতে তোলা হয়েছে। আমাদের কাছে অভিযোগ এসেছিল আমরা সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই গ্রেফতার করেছি।’


Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *