Suvendu Adhikari : 1200 কোটিতে হবে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান! জুন মাসে সময়সীমা বেঁধে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

Share

বীরসিংহ গ্রাম 30 সে সেপ্টেম্বর :

নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী।হেলিকপ্টার করে বীরসিংহ গ্রামে এলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী! বিদ্যাসাগর মহাশয়ের বাবা ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায় ও মা ভগবতী দেবীর আবক্ষ মূর্তি উন্মোচন করলেন, দিলেন মালা। এরপর সভা মঞ্চ থেকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান কবে হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষরা কত টাকা ত্রাণ পাবে তা ঘোষণা করেন।

ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী এদিন ঘাটালের বীরসিংহ গ্রামে এলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এখানে এসে তিনি মালা দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর সভা মঞ্চ থেকে ঘাটালের মাস্টার প্ল্যান কবে তৈরি হবে তা ঘোষণা করলেন সেই সঙ্গে ঘোষনা করলেন বানভাসি ঘাটালবাসীর জন্য ক্ষতিপূরণের। মূলত এদিন বেলা বারোটা নাগাদ খড়ার উদয়গঞ্জ মাঠে অস্থায়ী হেলিপ্যাডে অবতরণ করে মুখ্যমন্ত্রীর হেলিকপ্টার।সেখান থেকে বীরসিংহ গ্রামে বিদ্যাসাগর স্মৃতি মন্দিরে পৌঁছে বিদ্যাসাগরের মুর্তিতে মাল্যদান করে শ্রদ্ধা জানান তিনি। এরপর বীরসিংহ ভগবতী হাইস্কুল মাঠে অনুষ্ঠান মঞ্চে উপস্থিত হন। সেখানে প্রথমে তিন প্রতিভাবান ছাত্রীকে পুরস্কৃত করেন মঞ্চ থেকে কারণ তারা নিজেদের বিয়ে নিজেরাই রুখে দিয়েছিলেন পরিবারের বিরুদ্ধে গিয়ে। এই তিন ছাত্রী হল নুপুর চংরে,শ্রেয়া অধিকারী, তনুশ্রী সামন্ত।এরপর বক্তব্য রাখতে গিয়ে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ঘাটালের বন্যা পরিস্থিতি সেই সঙ্গে ঘাটালের মাস্টার প্ল্যান নিয়েও বিস্তৃত বক্তব্য রাখেন।

তিনি বলেন ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান এর জন্য ১২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। আশা করছি, যদি আর বানভাসি না হয় তাহলে কাজ পুরোদমে শুরু হবে এবং জুন মাস নাগাদ যতটা পারা যায় কাজ কমপ্লিট করার চেষ্টা করা হবে। তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের সাহায্য নিয়ে বলতে গিয়ে বলেন ভারত সরকার ৫০ শতাংশ টাকা দেবে আর আমরা ৫০ শতাংশ টাকা দেব। দিয়ে এই ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান প্রস্তুত হবে। যদিও বিগত সরকারকে কটাক্ষ করতে গিয়ে তিনি বলেন বিগত সরকার ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে কেবলমাত্র ভাষণে ছিল কাজের কাজ কিছুই করেনি। বানভাসি মানুষদের উদ্দেশ্যে বলেন বন্যা প্লাবিত এলাকায় যত কাঁচা বাড়ি আছে বিশেষ করে অ্যাসবেসটস, টিন বা খড়ের সেইসব বাড়ির মালিকদের খুঁজে বার করতে হবে, নাম নথিভুক্ত করতে হবে যে। যে তালিকা তৈরি করবেন জেলাশাসক, তাকে সাহায্য করবে এলাকার বিডিও এবং বিডিও দের সাহায্য করবে বিধায়ক এবং পুলিশ।

তাদের তালিকাভুক্ত করে তাদের এক লক্ষ আশি হাজার টাকা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ক্ষতিপূরণ হিসেবে তুলে দেওয়া হবে সরকারি ক্যাম্প করে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য তিনি বলেন জেলাশাসকদের উদ্দেশ্যে বলবো সরকারি ক্যাম্প করে যেসব এলাকা ডুবে রয়েছে চাষের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে সেসব কৃষকদের তালিকা তৈরি করে প্রধানমন্ত্রীর ক্রপ ইন্সুরেন্সের বা শস্য বিমার তালিকায় অন্তর্ভুক্তি করতে হবে। যাতে পানের বরজ এবং ধান সহ শস্যবীমা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণের টাকা পৌঁছে দেওয়া যায়।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগেই মুখ্যমন্ত্রীর আসার কথা ছিল কিন্তু প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের জন্য সেই কর্মসূচি বাতিল করে দেয় নবান্ন। সেই কর্মসূচি আবার পুনরায় পিছিয়ে আজকে করা হয়। উল্লেখ করা যেতে পারে ভোটের পর এটা নিয়ে দ্বিতীয় বার জেলায় আসছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। যদিও সরকারি বেশকিছু কর্মসূচি রয়েছে এদিনের কর্মসূচিতে। যদিও রাজনৈতিক মহলের মতে কেশপুর, হাতি হলকা, গড়বেতা সহ বেশ কিছু এলাকায় গোষ্ঠী সংঘর্ষ নিয়ে ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী সেই কিছু পর্যালোচনা করার কথা রয়েছে তার। যদিও এই দিন সভামঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী আগামী দিনে অবিভক্ত মেদিনীপুরে সভা করার জন্য খোদ মেদিনীপুর শহরের কলেজ কলেজিয়েট মাঠে আসবেন বলে আশ্বাস দিয়ে যান।


Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *