Ajit Maity : চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণায় ফের নতুন মামলা মমতা ঘনিষ্ঠ বিধায়ক অজিত মাইতির বিরুদ্ধে! চার দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ আদালতের

Share

মেদিনীপুর 30 সে সেপ্টেম্বর :

এবার আইসিডিএস কর্মীকে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে ৫ লক্ষ টাকার প্রতারণার অভিযোগ তৃণমূল নেতা অজিত মাইতির বিরুদ্ধে। যেই ঘটনায় চার দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ আদালতের।যদিও অজিত মাইতির আইনজীবী বলেন পুরোটাই ভুয়া এবং বিভ্রান্তিকর। একটার পর একটা মামলা জুড়ছে মমতা ঘনিষ্ঠ এই প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়কের নামে।

একটা মামলা শেষ হয় নি! আবার নতুন করে মামলায় জড়িয়ে গেলেন একসময় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতা বিধায়ক অজিত মাইতি। এবারের অভিযোগ চাকরি দেওয়ার নাম করে পাঁচ লক্ষ টাকা প্রতারণা। যে ঘটনায় নতুন করে চার দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেয় আদালত। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন আগে ভোর বেলায় গ্রেফতার হন মমতা ঘনিষ্ঠ জেলা পরিষদের সহ-সভাপতি প্রাক্তন বিধায়ক তৃণমূলের জেলা সভাপতি অজিত মাইতি। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল তৎকালীন সময়ে এক তৃণমূলে নেতা কে ব্লক সভাপতি পদে পাইয়ে দেওয়া। তার জন্য তিনি প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা চেয়েছিলেন বলেও অভিযোগ। যদিও সেই ব্যক্তি এরপরে সরকার পরিবর্তন হতেই মামলা করেন। ওই ব্যক্তির অভিযোগ ছিল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতা থাকাকালীন তিনি বারে বারে অভিযোগ জানিয়েছিলেন কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাই সরকার পরিবর্তনের পর তিনি মামলা করেছেন।

যে ঘটনায় পাঁচ দিনের পুলিশি শেষ হতেই তোলা হয়েছিল মেদিনীপুর আদালতে। কিন্তু এরই পাশাপাশি ফের নতুন মামলায় নাম জুড়লো এই তৃণমূল নেতার।এদিন নতুন মামলাতে মামলাকারী বরুণ দে অভিযোগ করেছে, তার স্ত্রী ঝর্ণা দে কে আইসিডিএস এ চাকরি দেওয়ার নাম করে গত ২২শে জুলাই ২০২৫ সালে টাকা নিয়েছিল। পরবর্তীকালে সেই টাকা তিনি ফেরত দেননি। উল্টে হুমকি গালিগালাজ তিনি দিয়েছিলেন। পরবর্তীকালে তিনি ২৬শে সেপ্টেম্বর ২০২৬ সালে খড়গপুর লোকাল থানায় অজিত মাইতির বিরুদ্ধে এফআইআর করেন।এদিন চারদিন পুলিশ রিমান্ডের পর মেদিনীপুর আদালতে হাজির করানো হয়। এদিন তার বিরুদ্ধে চাকরি দেওয়ার নাম করে পাঁচ লক্ষ টাকা প্রতারণার অভিযোগে নতুন একটি মামলা দায়ের হয়। সেই মামলায় খড়গপুর লোকাল থানার পুলিশ এদিন মেদিনীপুর আদালতে পাঁচ দিনের জন্য পুলিশ রিমান্ড এর জন্য আবেদন করে। আদালত চার দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করেছে। পুরনো পিংলার থানার তোলাবাজি মামলার আপাতত কোন রায়দান করেনি আদালত।

এই বিষয়ের সরকারি আইনজীবী পৌলোমী কোলে বেরা বলেন,’খরগোপুর লোকাল এর বাসিন্দা বরুণ দে নামে এক ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন তার স্ত্রীকে আইসিডিএস চাকরি করে দেওয়ার নামে পাঁচ লক্ষ টাকা নিয়েছেন এই তৃণমূল নেতা।লিখিত পরীক্ষা দেওয়া সত্ত্বেও চাকরি না হওয়ায় সাহেব দে বলে এক ব্যক্তি এই অজিত মাইতির সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেন এবং ডিসেম্বর মাসে তার কাছে পাঁচ লক্ষ নেন চাকরি করে দেবেন বলে। সেই টাকা অজিত মাইতির অফিসে বসে অজিত মাইতি এবং অজিত মাইতির ছেলে অর্ক মাইতির হাতে টাকা দেন এই ব্যাক্তি। কিন্তু এরপর চাকরি না হওয়ায় তিনি বারবার বলতে গেলে তাকে এড়িয়ে যান এবং প্রাণে মারার হুমকি দেন। সেই ঘটনায় গত ২৬ সে সেপ্টেম্বর ওই ব্যক্তি অভিযোগ করেন অজিত মাইতির বিরুদ্ধে। আজকে আদালতে তোলা হলে পুলিশ পাঁচ দিনের হেফাজতের আবেদন করেন কিন্তু আদালত চার দিনের পুলিশে নির্দেশ দেন।

যদিও অভিযুক্ত অজিত মাইতির দাবি পুরো মামলা ভুয়ো এবং মিথ্যে। এর সঙ্গে আমার কোন যোগাযোগ নেই, যা রাজনীতি গত ভাবে আমাকে ফাঁসানো হয়েছে।

অন্যদিকে অজিত মাইতির আইনজীবী মৃণাল চৌধুরী বলেন,”ওই ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন তার স্ত্রীকে চাকরি পায়ে দেয়ার নামে অজিত মাইতি ৫ লক্ষ টাকা নিয়েছেন কিন্তু প্রায় এক থেকে দেড় বছর পর তিনি অভিযোগ করেছেন যা সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর এবং ভুয়ো। এই ঘটনায় আদালতের কাছে পুলিশ পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিল কিন্তু আদালত সব শোনার পর চার দিনের নির্দেশ দেন।”


Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *