
চন্দ্রকোনা 23 সে সেপ্টেম্বর :
সদ্যপ্রয়াত হয়েছে এই মহিলার স্বামী অভিযোগ ছিল সুসাইডের। কিন্তু তিন মাস পরেই স্বামীর অবর্তমানে প্রেমিকের সঙ্গে প্রেম মহিলার। হাতেনাতে ধরা পড়ার পরই তাদের ধরে বেঁধে চুন মাখিয়ে দিল এলাকার মানুষজন। এলাকাবাসীর অভিযোগ তাদের ঘরের ছেলেকে সুসাইড করতে বাধ্য করেছে এবং মেরে ফেলেছে এই গৃহবধূ। তার কারণ তার এই প্রেমিক। আর তাই এর বিচার চাইতেই তাদের বেঁধে রাখা হয়েছে। যদিও পরে পুলিশ এসে উদ্ধার করে নিয়ে যায় দুজনকে।

প্রেমের শাস্তি দিতে প্রেমিক-প্রেমিকাকে খুঁটিতে বেঁধে প্রেমিকার মুখে চুন মাখিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দিল এলাকার মানুষজন। ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনা পৌরসভার গোঁসাই বাজার জহরপুকুর এলাকায়।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই গৃহবধূর স্বামী কিছুদিন আগেই গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন। অভিযোগ, স্বামীর মৃত্যুর কয়েক মাস যেতে না যেতেই স্বামীর ভিটেতেই প্রেমিককে ডেকে পাঠান ওই গৃহবধূ। বিষয়টি নজরে আসে শ্বশুরবাড়ির লোকজন ও প্রতিবেশীদের।এরপরই উত্তেজিত হয়ে ওঠেন এলাকার মানুষ। অভিযোগ, গৃহবধূ ও তাঁর প্রেমিককে ধরে খুঁটিতে বেঁধে রাখা হয় এবং প্রেমিকার মুখে চুন মাখিয়ে দেওয়া হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে চন্দ্রকোনা থানার পুলিশ। পুলিশ এসে দু’জনকেই উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
তবে এইভাবে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। পুলিশ ঘটনা খতিয়ে দেখছে।

এলাকাবাসীর মতে, এদের স্বামী স্ত্রীর মধ্যে বনিবনা ছিল না। তাদের এও অভিযোগ এই মহিলা তার স্বামীকে খেতে দিত না সেইসঙ্গে দম্পত্তির মতন আচার-আচরণ করত না। যেদিন মারা যায় সেদিন জানলায় সুসাইড করে মারা যায় যা।যা কখনো সম্ভব নয় বলেই তারা মনে করছে। মাত্র তিন মাস কেটেছে এবং তার মধ্যেই এই যুবককে নিয়ে এসেই এই মহিলা তার প্রেমলীলা শুরু করে দিয়েছে। তাই আমাদের মনে হয়েছে এই তার স্বামীর মৃত্যুর জন্য এই মহিলা খোদ নিজে দায়ী, হয়তো নিজেই সে মেরে ফেলেছে। এরপর এই মহিলার বাড়িতেও জানানো হয় এবং বাড়ির নির্দেশ মতো দুজনকে বেঁধে রাখা হয়েছে। আমরা চাই এই মহিলা এবং এই যুবকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির।

এই বিষয়ে মৃত যুবকের ভাইপো বলেন, ‘গতকাল সন্ধ্যে থেকেই এই বছর ২৩ এর যুবক এলাকায় ঘোরাঘুরি করতে থাকে। বারে বারে তাদের এই কাকিমার বাড়ির সামনেই দাঁড়িয়ে থাকে। এই পরিস্থিতি লক্ষ্য করেছে এলাকার মানুষজন দীর্ঘক্ষণ ধরে। এরপরই তাকে ধরা হয় ধরা হয় কাকিমাকে। এবং জিজ্ঞাসাবাদ করেই তাদের মধ্যে কথার মিল না থাকায় দুজনকেই বাঁধা হয় খুঁটিতে। এরপর খোঁজ পাঠানো হয় কাকিমার বাড়িতে। কাকিমার বাড়ি থেকে নির্দেশ এসেছে যে এদের বেঁধে রাখতে তাই আমরা বেঁধে রেখেছি। আমরা চাই আমার মৃত কাকার মৃত্যুর আসল কারণ বেরিয়ে আসুক এবং দোষী তার উপযুক্ত শাস্তি পাক। কারণ মাত্র তিন মাস হয়েছে কাকা মারা গেছে আর তার মধ্যে এই কান্ড। এছাড়া আমরা এও জেনেছি যে কাকাকে কোনোভাবেই খেতে পরতে দিত না কাকিমা সব সময় অশান্তি করত। এরপর জানালায় সুসাইড করে যেটা অবাস্তব। তাই আমাদের মনে হয় এই ঘটনার পিছনে এই যুবক ও দায়ী থাকতে পারে।’

যদিও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট চন্দ্রকোনা থানার এক পুলিশ আধিকারিক বলেন,’এই ঘটনায় এখনো অভিযোগ হয়নি, তবে এদেরকে রাখা হয়েছে আটক করে। সেই সঙ্গে ডাকা হয়েছে বাড়ির লোকদের। এরপর খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’