
গড়বেতা 18 ই জুলাই :
গভীর রাতে দিদা কে নাতির আক্রমণ। বাঁচাতে এসে আহত মামা ও মাসি। গুরুতর অবসাদের ভর্তি করা হল বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিকেল কলেজ ও হসপিটালে। অন্যদিকে অভিযুক্ত নাতি সৌরভ দুলেকে গ্রেফতার নিয়ে যায় পুলিশ। প্রাথমিক অনুমান মানসিক ভারসাম্যহীন এবং অতিরিক্ত মদ্যপানের জন্য এ ঘটনা। এলাকা ।

পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গড়বেতা থানার আমলাগোড়া এলাকায় কার্পটডাঙ্গায় পারিবারিক অশান্তি রক্তাক্ত পরিণতি নিল। অভিযোগ, নাতির হামলায় মৃত্যু হল দিদার। গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন অভিযুক্তের মামা ও মাসি। ঘটনায় এলাকাজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার গভীর রাতে অভিযুক্ত সৌরভ দুলে(২৭) আচমকাই বাড়ির মধ্যে থাকা তাঁর দিদা নিদ্রা দুলে, মামা শিবু দুলে এবং মাসি আভা দুলের উপর হামলা চালায়। প্রথমে একটি লোহার রড দিয়ে মারধর করার পর ধারালো কাঠারি দিয়ে তাঁদের এলোপাথাড়ি কোপানোর অভিযোগ ওঠে।
গুরুতর আহত অবস্থায় কোনওক্রমে বাড়ির বাইরে বেরিয়ে এসে চিৎকার করেন আভা দুলে। তাঁর আর্তনাদ শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে এলেও অভিযুক্তের হাতে ধারালো অস্ত্র থাকায় কেউ এগিয়ে যেতে সাহস পাননি।

খবর পেয়ে গড়বেতা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অভিযুক্ত তাদের উপরেও হামলার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ। পরে পুলিশ তাকে নিয়ন্ত্রণে এনে গ্রেফতার করে। এরই মধ্যে গুরুতর জখম অবস্থায় তিনজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা নিদ্রা দুলেকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত শিবু দুলে ও আভা দুলেকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবারের সদস্যদের দাবি, অভিযুক্ত দীর্ঘদিন ধরেই মানসিক ভারসাম্য হীনতায় ভুগছিল এবং মদ্যপানেরও অভ্যাস ছিল। কয়েক বছর আগে তাঁর মায়ের মৃত্যু হওয়ার পর তিনি মামার বাড়িতেই বসবাস করছিলেন। তবে কী কারণে তিনি হঠাৎ এমন নৃশংস হামলা চালালেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

এই বিষয়ে প্রতিবেশী অমিত গিরি বলেন,”গতকাল রাত সাড়ে ১১ টার সময় হঠাৎ বিরাট হৈ হট্টগোলের খবর পায়। তারপরই দেখি রক্তাক্ত অবস্থায় এই পরিবারকে। আসলে ওই পরিবারের সৌরভ দুলে মানসিক ভারসাম্যহীন বলেই শুনেছি। ওর মা মারা যাবার পর ও প্রতিদিন মদ খেয়ে অত্যাচার করতো। গতকাল রাতেও বেধড়ক মারধর করে এবং তাতেই ওর দিদা মারা যায় এবং মাসি ও মামা আহত হয়। পরে পুলিশ এসে ওকে ধরে নিয়ে গেছে। “

পুলিশের এক আধিকারিক সূত্রে জানা যায়, ঘটনার তদন্ত চলছে। নাতি সৌরভ মানসিক ভারসাম্যহীন। ইতিমধ্যে তাকে গড়বেতা আদালতে তোলা হয়। তিন দিনের পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তদন্ত করে দেখা হচ্ছে ভেতরের ঘটনা।