Suvendu Adhikari : কেশপুরে গুলির আওয়াজ, সন্ত্রাস এবং একদলীয় ব্যবস্থায় রূপান্তরিত হয়েছে,একে প্রধানমন্ত্রীর আবাস, সূর্য ঘর দিয়ে ঝাঁ চকচকে করে তুলুন! মুখ্যমন্ত্রী

Share

মোহবনি 11 ই আগস্ট :

বীর বিপ্লবীর পূর্ণ জন্মভূমিতে রাজ্যের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বীর শহীদ ক্ষুদিরাম বসুর জন্মভিটে কেশপুরের মোহবনিতে এলেন শ্রদ্ধা জানাতে। মূলত ১১ ই আগস্ট ক্ষুদিরাম বসুর আত্মবলিদান দিবস। প্রতিবছরই শ্রদ্ধার সঙ্গে দিনটি পালিত হয় তাঁর জন্মভূমিতে। এবছর সেই অনুষ্ঠানে এলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী।

প্রথমে তার হেলিকপ্টার আসার কথা ছিল কিন্তু প্রাকৃতিক বিপর্যয় এবং যান্ত্রিক ত্রুটির জন্য তিনি গাড়িতে করে দেরিতে এসে পৌঁছান। এরপর ক্ষুদিরাম বসুর মূর্তিতে মাল্যদান করেন। মাল্যদান করার পর সভায় থেকে সম্বর্ধনা জানানো হয় প্রশাসনের তরফ থেকে। তারপর বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন,” পূর্বের কোন মুখ্যমন্ত্রী বিগত দীর্ঘ বছর ধরে কোনদিন এসে মালা দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে গেছেন বলে তার কোন রেকর্ড নেই। আমি আজ মালা দিয়ে নিজেকে কৃতার্থ মনে করি। এরপর বিগত সরকারের কাজ নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বাম এবং তৃণমূলকে কটাক্ষ করে বলেন দীর্ঘ ৩৪ বছরে কমিউনিস্ট রাজত্ব এবং ১৫ বছরের তৃণমূল জমানায় কোনদিন কোন ভাবেই না করেছে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের সম্মান, না তুলে ধরেছে রাষ্ট্রবাদীনেতাদের ইতিহাস। তিনি উদাহরণ টেনে বলেন নতুন প্রজন্ম এবং তরুণ তরুণীদের সিঙ্গুরের অনশন পড়ানো হয়েছে কিন্তু ক্ষুদিরাম বা মাতঙ্গিনীর জীবনী সেভাবে তুলে ধরে পড়ানো হচ্ছে না এই নতুন প্রজন্মকে।

এরপর শিক্ষা দপ্তরের বার্তা দিতে গিয়ে বলেন, শিক্ষা দপ্তর কে বলবো চার লাইনে ক্ষুদিরাম বসুকে শেষ করলে হবে না, বরং প্রাইমারি থেকে উচ্চ শিক্ষা, উচ্চ শিক্ষা থেকে ইউনিভার্সিটি কলেজে বেশি বেশি করে জানানো উচিত এই বীর বিপ্লবীদের সম্বন্ধে। বিশেষ করে ওনার ভাবনা, চিন্তাও ওনার আন্দোলন, ওনার মাথা উঁচু করে হার না মানা লড়াই করার জীবন তিনি যে শুরু করেছিলেন এ লড়াই সকলের জানা দরকার। এরপর কেশপুরের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন এই কেশপুর মানে একসময় বোমাগুলির আওয়াজ, কেশপুর মানে মিথ্যে মামলা, কেশপুর মানে একদলীয় ব্যবস্থা ছিল। ‘কেশপুর মানে রাজ্য ও কেন্দ্রের উন্নয়নের সকল কাজের কাঠমানি,সে সঙ্গে তিনি বলেন কেশপুর মানে পঞ্চায়েতের সব জিনিস লুট ‘এটা বন্ধ করতে হবে। তিনি বার্তা দিয়ে বলেন কেশপুর কে বদলাতে হবে। সেই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর শৌচালয়, আবাস এবং সূর্যঘর দিয়ে উন্নয়ন করতে হবে কেশপুরের।

সেই সঙ্গে রাস্তা চকচকে, আলো, হসপিটাল, ভালো স্কুল কলেজের উন্নয়নের সঙ্গে যাতে কোনোভাবে রোগী রেফার না হয় তাই করতে হবে। এ পরে জেলা পুলিশ সুপারের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন,’ এখানকার বহু মানুষ নরেন্দ্র মোদী জিন্দাবাদ বলতে গিয়ে ফলস মামলা মোকদ্দমা, হয়রানি এবং অত্যাচারিত হয়েছেন, সেই সকল মিথ্যে মামলা প্রত্যাহার করবে। তিনি উদাহরণ টেনে বলেন ২০২৪ সালে আমাকে সভা করতে দেয়নি তৎকালীন শাসক দল এবং এখানকার নেতা নেত্রীরা তবুও আমি এসেছিলাম। তাই যারা তখন মিথ্যে ভুয়ো মামলা দিয়ে অত্যাচার করেছে, সেই কেস বার করে দোষীদের কঠোর থেকে কঠোরতম শাস্তি দেবেন।’

উল্লেখ্য, এদিন এই অনুষ্ঠান মঞ্চে ঢোকার ক্ষেত্রে কড়া নির্দেশিকা রেখেছিল প্রশাসন। গুটি কয়েক বিধায়ক প্রশাসনের লোকজন ছাড়া মঞ্চে কাউকে রাখা হয়নি। বহু বিধায়ক অনুষ্ঠান স্থলের বাইরেই স্ক্রিন দেখে বক্তব্য শোনেন। যদি ওই দিন মুখ্যমন্ত্রী খোদ ঘন্টা দুয়েক দেরি করে অনুষ্ঠান মঞ্চে পৌঁছান।


Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *