Petrol Diesel Crisis : যুদ্ধের প্রভাব! কোন খালি পাত্রে পেট্রল-ডিজ়েল সংরক্ষণ করা যাবে বার্তা নরেন্দ্র মোদীর সরকার

Share

মেদিনীপুর 14 ই মার্চ :

আর নয় সহজ! এবার খালি বা অনুপযুক্ত পাত্রে পেট্রল-ডিজ়েল সংরক্ষণ করা যাবে না। শুধু তা-ই নয়, যে কোনও পাত্রে পেট্রল-ডিজ়েল বিক্রি করা যাবে না। দেশে জ্বালানি-উদ্বেগের মধ্যে আবার বার্তা দিল নরেন্দ্র মোদীর সরকার। দেশবাসীর উদ্দেশে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের বার্তা, দেশের পেট্রল পাম্পগুলিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে জ্বালানি রয়েছে। তাড়াহুড়ো করে পেট্রল বা ডিজ়েলের মতো নিরাপদ নয় এমন জিনিস অনুপযুক্ত ভাবে সংরক্ষণ করা ঠিক নয়।

যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সংঘাতের আঁচ এসে পড়েছে ভারতেও। গ্যাসের পাশাপাশি পেট্রোপণ্যের পর্যাপ্ত যোগান নিয়েও কোথাও কোথাও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। তথ্য অনুযায়ী আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রত্যাঘাত হানতে পশ্চিম এশিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ হরমুজ় প্রণালী ‘বন্ধ’ করে রেখেছে ইরান। কিছু কিছু জাহাজে ছাড় দিলেও অধিকাংশ পণ্যবাহী জাহাজ ওই এলাকায় আটকে রয়েছে। ফলে পশ্চিম এশিয়া থেকে জ্বালানির জোগান থমকে গিয়েছে। উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে ভারতেও। যদিও ভারত সরকার বার বার জানাচ্ছে, অযথা আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানির মজুত রয়েছে। এলপিজি সিলিন্ডারের দাম কিছুটা বেড়ে যাওয়ায় দেশবাসী সঙ্কটের আশঙ্কায় ভুগতে শুরু করেন। তার পর থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পেট্রল পাম্পগুলিতে গাড়ির লম্বা লাইন পড়তে শুরু করেছে।

ক্রেতাদের একাংশ বোতল বা অন্য কোনও পাত্রে পেট্রল-ডিজ়েল সংরক্ষণ করে রাখতে শুরু করেছেন। সেই বিষয় উল্লেখ করে সতর্ক করল পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক। মন্ত্রকের বার্তা, ‘সারা দেশে পেট্রল এবং ডিজ়েল পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া যাচ্ছে। সেই কারণে গ্রাহকদের উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই।’ খালি বা অনুপযুক্ত পাত্রে পেট্রল বা ডিজ়েলের মতো দ্রব্য সংরক্ষণ করা কখনওই উচিত নয়, জানাল পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক। একই সঙ্গে পেট্রল পাম্পগুলিকে সতর্ক করেছে কেন্দ্র। বলা হয়েছে, নিয়মের বাইরে গিয়ে কেউ যদি কোনও ক্রেতাকে খালি বা অনুপযুক্ত পাত্রে পেট্রল বা ডিজ়েল দেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।মন্ত্রক জানিয়েছে, সম্প্রতি তামিলনাড়ুতে একটি পেট্রল পাম্প থেকে এক ক্রেতাকে অনুপযুক্ত পাত্রে পেট্রল দেওয়ার বিষয় প্রকাশ্যে এসেছে। এটা কখনওই নিরাপদ নয়। সংশ্লিষ্ট ওই পেট্রল পাম্পের মালিকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হয়েছে।

ভবিষ্যতে যদি কেউ নিয়ম লঙ্ঘন করেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ করা হবে। মোদী সরকার সতর্ক করে জানিয়েছে, দেশের সকল ডিলারকে জ্বালানি সরবরাহের নিয়ম মেনে চলতে হবে। ভারত সরকার জানিয়েছে, দেশে খনিজ তেলের কোনও সঙ্কট নেই। এলপিজির জোগান যতটা বাইরে থেকে আমদানি করা হয়, তা ব্যাহত হয়েছে হরমুজ়-সমস্যার কারণে। পরিস্থিতির মোকাবিলায় অভ্যন্তরীণ উৎপাদনে জোর দিয়েছে কেন্দ্র।শুধু পেট্রল-ডিজ়েল নয়, এলপিজি সিলিন্ডার নিয়েও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে দেশ জুড়ে। অনেকেরই অভিযোগ, অনলাইনে সিলিন্ডার বুকিং সম্ভব হচ্ছে না। ফলে তাঁরা ভিড় করছেন গ্যাসের দোকানের বাইরে। উদ্বেগের বিষয়টি মানছে কেন্দ্রও। তবে আতঙ্কিত না-হওয়ার বার্তাও দেওয়া হয়েছে। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের এক আধিকারিক জানান, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে ভারতে হু-হু করে বেড়েছে এলপিজি সিলিন্ডার বুকিংয়ের সংখ্যা।

যে পরিমাণ বুকিং হচ্ছে, তা সরবরাহ করা চিন্তার বিষয় ঠিকই। তবে এখনও পর্যন্ত কোথাও এলপিজি ঘাটতির কোনও খবর নেই। ওই আধিকারিকের আর্জি, ‘‘একমাত্র প্রয়োজন থাকলেই বুকিং করুন।’’প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এই গ্যাস পেট্রোপণ্য সরবরাহ নিয়ে সোশ্যাল মাধ্যমে বিভিন্ন খবরে উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছে ভারতের মানুষজন। জেলা রাজ্য তো বটেই প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের মানুষজন পর্যাপ্ত গ্যাস ও পেট্রোপণের অভাব নিয়ে অশনি সংকেত দেখছেন। এক্ষেত্রে এগিয়ে এসে পাশে থাকার বার্তা নরেন্দ্র মোদি সরকারের।


Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

dnews.in