
মেদিনীপুর 16 ই এপ্রিল :
ভোট চলাকালীন এবার অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্ম ফিলাপ শুরু করল বিজেপি। এদিন মেদিনীপুর শহরের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে এই অন্নপূর্ণা ফরম ফিলাপ করেন বিজেপি নেতাকর্মীরা আর তাতেই ফরম ভিড় জমান অসংখ্য মহিলা। বিজেপির দাবি আর মা-বোনদের হাজার টাকার জন্য হাপিত্তেশ করে থাকতে হবে না বরং ৩০০০ টাকা পেয়ে তারা স্বনির্ভর হবেন।

স্বয়ং নরেন্দ্র মোদী এবং বিভিন্ন জায়গায় বিজেপি নেতা নেতৃত্ব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে তারা ক্ষমতায় এলে এবার আর লক্ষীর ভান্ডারে এক হাজার টাকা নয়, তারা অন্নপূর্ণা ভান্ডারে একদম ৩০০০ টাকা দেবে মা বোনদের। এবার তা করে দেখালো মেদিনীপুর। এদিন মেদিনীপুর শহরের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের বিজেপি নেতাকর্মীরা বসলেন টেবিল পেতে ৩০০০ টাকা অন্নপূর্ণা ফরম ফিলাপের উদ্দেশ্যে আর তাতেই লাইন লাগালো এলাকার মহিলারা। ব্যাংকের জেরক্স কপি আধার কার্ড ভোটার কার্ড নিয়ে ফর্ম ফিলাপ করছেন এলাকার কয়েকশো মহিলা। বিজেপির দাবি এই ৪ ই মে ফল ঘোষণার শুধু সময়ের অপেক্ষা। কারণ রাজ্যে পরিবর্তন হচ্ছে এবং এই রাজ্য সরকার নতুন দায়িত্ব পাবে বিজেপি। আর প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা মত এই দায়িত্ব পাওয়ার পরই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে তিন হাজার টাকা দেওয়া হবে মা-বোনদের। তাই এই ফর্ম ফিলাপ চলছে জোর কদমে।

যদিও এই ফরম ফিলাপ করতে আসে আর লাইনের মহিলারাও এক বাক্যে স্বীকার করে নেন,’লক্ষী ভান্ডারের ১০০০ টাকা বা দেড় হাজার টাকার সংসার চলছে না। যেভাবে দিনের পর দিন জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে বাড়ছে,গ্যাসের দাম বাড়ছে তাতে ৩০০০ টাকা পেলে অনেকটাই সুবিধা হবে।’ যদিও নির্বাচন ঘোষণায় এই ফরম ফিলাপে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
যদি ওই ফরম ফিলাপে আসা মহিলাদের বক্তব্য লক্ষীর ভান্ডার আমরা পাচ্ছি কিন্তু সেই টাকায় সংসার চলে না। দিনের পর দিন জিনিস পত্রের দাম বাড়ছে,বাড়ছে গ্যাসের দাম। আর তাই সংসার সামলাতে এই অন্নপূর্ণা ভান্ডারের ফরম ফিলাপে করতে এসেছি আমরা। এই টাকা পেলে মেয়েরা স্বনির্ভর হবে সেই সঙ্গে সংসারের অনেক সমস্যা সমাধান হবে।

এ বিষয়ে বিজেপি নেত্রী গীতিকা দাস, অরুন সাউ এর বক্তব্য প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা মত আমরা ফরম ফিলাপ শুরু করেছি।ফর্ম ফিলাপ আজ থেকে চলবে কুড়ি এপ্রিল পর্যন্ত। আমরা আর ১০০০ টাকা দেব না বরং অন্নপূর্ণা যোজনায় মা বোনেরা সকলেই তিন হাজার টাকা পাবে। শুধু সময়ের অপেক্ষা। কারণ বিজেপি এবারের রাজ্যের দায়িত্ব নিতে চলেছে।একই বক্তব্য সোমনাথ সিংহের। তিনি বলেন লক্ষীর ভান্ডার একটা গিমিক। যার মানুষের মধ্যে বিভ্রান্ত সৃষ্টি করেছে কিন্তু আমরা মহিলাদের স্বনির্ভর হওয়ার জন্যই এই তিন হাজার টাকা দেব।আর তার জন্যই এই ফর্ম ফিলাপ চলছে। যে ফর্ম ফিলাপের লাইন লাগিয়েছেন এলাকার মহিলারা।

এ বিষয়ে প্রার্থী না বললেও মেদিনীপুর পৌরসভার ভাইস চেয়ারম্যান মৌ রায় বলেন,”এখন নির্বাচন কমিশন চোখে ঠুলি বাঁধা আছে,এখন দেখতে পাই না। আমরা এটা নিয়ে কমিশন অভিযোগ জানিয়েছি, একটা নির্বাচন ঘোষণা হওয়ার পর এ ধরনের ফর্ম ফিলাপ কি করা যায় ? আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।