
পিংলা 1 লা জুন :
পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলা থেকে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনার খবর সামনে এসেছে। অভিযোগ, পুরুষ হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে বিধবা ভাতার অর্থ গ্রহণ করছিলেন এক হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক। এই অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
ধৃতের নাম অমলেন্দুবিকাশ মণ্ডল (৬৫)। তাঁর বাড়ি পিংলা থানার অন্তর্গত ক্ষিরাই গ্রাম পঞ্চায়েতের যশরাজপুর গ্রামে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত প্রায় দু’বছর ধরে তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বিধবা ভাতার টাকা জমা পড়ছিল। অভিযোগের তদন্তে নেমে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। সোমবার তাঁকে মেদিনীপুর জেলা আদালতের সিজেএম কোর্টে তোলা হলে বিচারক তিন দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন।

তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অমলেন্দুবিকাশ। তাঁর দাবি, ২০২২ সালে তিনি বার্ধক্য ভাতার জন্য আবেদন করেছিলেন। পরবর্তীতে কীভাবে তাঁর অ্যাকাউন্টে বিধবা ভাতার টাকা জমা পড়তে শুরু করে, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন। তিনি আরও জানান, বিষয়টি নজরে আসার পর স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যদের অবহিত করেছিলেন। কিন্তু তাঁদের পক্ষ থেকে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। অমলেন্দুর অভিযোগ, প্রশাসনিক গাফিলতির ফলেই আজ তাঁকে এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
অন্যদিকে, স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য আশীষ মাইতি জানিয়েছেন, বিষয়টি সম্পর্কে তাঁর কোনও ধারণা নেই।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে চাপানউতোর। স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক স্বাগতা মান্না কটাক্ষ করে বলেন, “তৃণমূলের দুর্নীতির জেরে এখন লিঙ্গ পরিচয়েরও গণ্ডগোল দেখা যাচ্ছে।”
জেলার পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই গ্রেফতারি হয়েছে। ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত চলছে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে পুরুষদের নামে মহিলাদের জন্য নির্ধারিত বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ সামনে এসেছে। বিশেষ করে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পে পুরুষদের নামে ভাতা নেওয়ার একাধিক ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। কয়েকদিন আগে নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, এই ধরনের অনিয়মের সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে। তিনি পুলিশকে তদন্তের গতি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন এবং প্রয়োজন হলে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠনের কথাও জানিয়েছেন।
এই আবহেই পিংলার চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিধবা ভাতা গ্রহণের অভিযোগ নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে এটি প্রশাসনিক ভুল, নাকি পরিকল্পিত প্রতারণার ঘটনা।