
মেদিনীপুর 3 রা জুন :
রাজ্যপালের উপস্থিতিতে বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় অনুষ্ঠিত হল ২৩ তম সমাবর্তন অনুষ্ঠান। মোট ৮৯,১৫৮ জন শিক্ষার্থী ও গবেষককে উপাধি প্রদান করা হয় এই সমাবর্তন অনুষ্ঠান থেকে। মূলত ভারতে আধুনিক শিক্ষা-ব্যবস্থার পথিকৃৎ ও সমাজ সংস্কারক পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের নামাঙ্কিত বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এই সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিগত তিন বছরের (২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৫ সাল) স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী এবং ডক্টরেট উপাধি-প্রাপ্ত গবেষকদের শংসাপত্র প্রদান ও সাফল্য উদ্যাপন করা হবে।

উল্লেখ্য, তবে শেষ সমাবর্তনটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২৩ সালের ৭ই নভেম্বর। সমাবর্তনের সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য তথা পশ্চিমবঙ্গের মহামান্য রাজ্যপাল আর. এন. রবি। সমাবর্তনের ভাষণ দেন এন. আই. টি দুর্গাপুরের প্রাক্তন অধিকর্তা, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজা রামান্না, চেয়ার প্রফেসর, বর্তমানে সিস্টার নিবেদিতা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কলকাতা) সম্মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক (ড.) অনুপম বসু। উপস্থিত থাকবেন বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ড.) দীপক কুমার কর, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্টের মাননীয় সদস্যবৃন্দ এবং অন্যান্য বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও প্রশাসনিক ব্যক্তিত্ব। অনুষ্ঠানে বিগত তিন বছরের ৮৯,১৫৮ জন শিক্ষার্থী ও গবেষককে উপাধি প্রদান করা হয়। বিভিন্ন স্তরের উপাধি প্রাপকদের মধ্যে স্নাতক উত্তীর্ণ ৭০,০০৯ শিক্ষার্থী, স্নাতকোত্তর উত্তীর্ণ ১৮,৭৭৯ শিক্ষার্থী এবং ৩৬৪ জন ডক্টরেট প্রাপ্ত উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও ১৯৩ কৃতিকে স্নাতক পদক, ১৮১ কৃতিকে স্নাতকোত্তর পদক, ৪১ কৃতিকে এনডাউমেন্ট পদক এবং ৪১ বিশিষ্ট ব্যক্তিকে বিবেকানন্দ স্মৃতি গবেষণা পদক, বিদ্যাসাগর স্মৃতি গবেষণা পদক, এন. এস. এস. পদক, অন্যান্য বৃত্তি ও পুরস্কার দিয়ে সম্মানিত করা হয়। বিশেষ উল্লেখ্য, তিনজন বিশ্বখ্যাত বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও বিজ্ঞানীকে সম্মানসূচক ডি. এসসি. ও ডি. লিট. উপাধি প্রদান করে বিশ্ববিদ্যালয় গৌরাবান্বিত করা হয় এদিন। সাম্মানিক ডি. এসসি. প্রদান করা হবে ইসরোর প্রাক্তন চেয়ারম্যান (ড.) এস. সোমানাথ এবং এম. পি. বিড়লা ইনস্টিটিউট অব্ ফাণ্ডামেন্টাল রিসার্চ, এম. পি. বিড়লা প্ল্যানেটারিয়াম, কলকাতার পূর্বতন অধিকর্তা (ড.) দেবীপ্রসাদ দুয়ারী কে। সাম্মানিক ডি.লিট. প্রদান করা হবে স্কটল্যাণ্ডের এডিনবার্গ নেপিয়ার ইউনিভার্সিটির ইংরেজি ও ক্রিয়েটিভ রাইটিংয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপিকা (ড.) বাসবী ফ্রেজার কে।

বিবেকানন্দ স্মৃতি গবেষণা পদক ও বিদ্যাসাগর স্মৃতি গবেষণা পদক প্রদান করা হবে যথাক্রমে অর্থনীতির অধ্যাপক (ড.) রমেশ চন্দ্র দাস ও মাইক্রোবায়োলোজির অধ্যাপক (ড.) কেশব চন্দ্র মণ্ডল ।সারাদিন-ব্যাপী কর্মসূচি শুরু হবে সভাগৃহে প্রবেশের সময়ে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথের বিদ্যায়তনিক সংগীত “বিশ্ববিদ্যা তীর্থপ্রাঙ্গন করো মহোজ্জ্বল” দিয়ে। এরপর সভার মূল অনুষ্ঠান শুরু হবে জাতীয় সংগীত ‘বন্দেমাতরম’ এবং তারপরেই জাতীয় বন্দনা-গীতি ‘জনগণমন’ গানের মধ্য দিয়ে। সমাবর্তন উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, প্রবেশ পথ থেকে বিবেকানন্দ সভাগৃহ সর্বত্র সুসজ্জিত করা হয়েছিল। জাতীয়, রাজ্য ও স্থানীয় স্তরের ৪০ জনেরও বেশি সাংবাদিককে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক দীপক কুমার কর শিক্ষার্থী, অধ্যাপক, শিক্ষা-আধিকারিক, শিক্ষা-সহায়ক কর্মি এবং শুভানুধ্যায়ীদের এই সমাবর্তন সফল করে তোলার জন্য অভিবাদন জানান।