Sabang Flood : বানভাসি সবংয়ে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী! ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের ক্ষতিপূরণ এবং ত্রাণ তুলে দেবেন সরাসরি

Share

সবং 20 ই আগস্ট :

বৃষ্টি থামলেও এখন জলের তলায় সবংয়ের বিস্তীর্ণ এলাকা। বৃহস্পতিবার প্লাবিত সবং পরিদর্শনে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আকাশ পথেই আসার কথা মুখ্যমন্ত্রীর। তবে পরিস্থিতি খারাপ হলে সড়ক পথে আসতে পারেন। এলাকায় তিনি বৈঠকের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের ত্রাণ এবং ক্ষতিপূরণ তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে।

একদিকে টানা বৃষ্টি আর অপরদিকে বানভাসি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চল যার মধ্যে অন্যতম হলো সবং। তাই এবার দ্বিতীয় জেলা সফরে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রশাসন ও বিজেপির দলীয় সূত্র অনুযায়ী মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এইদিন দুটি জায়গায় পর্যবেক্ষণ করার কথা রয়েছে এক হচ্ছে আরামবাগ আর দ্বিতীয় হচ্ছে সবং। আকাশের পরিস্থিতি ঠিক থাকলে তিনি হেলিকপ্টারে করে প্রথমে সবং এ আসবেন। বিডিও অফিসে প্রশাসনিক বৈঠক সারবেন। এরপর এলাকায় ঘুরে ত্রাণ বিলি করবেন বলেও জানা যায়। সেই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের সঙ্গে কথা বলবেন এবং বেশ কিছু ক্ষতিপূরণ তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে। পরবর্তীকালে বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে তিনি নির্দেশ দিয়ে চলে যাবেন আরামবাগে। আর তাই এখন মুখ্যমন্ত্রীর পরিদর্শন ঘিরে জোর তৎপরতা প্রশাসনের। মুখ্যমন্ত্রীর সফর ঘিরে গত বুধবার দুপুর থেকেই তৎপরতা শুরু হয় সবংয়ে।

বিকেল নাগাদ সবংয়ে পৌঁছান জেলা পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা। সবংয়ের দেভোগ অঞ্চলের বাড়জীবন এলাকায় সকাল দশটা নাগাদ মুখ্যমন্ত্রীর কপ্টার অবতরণ করতে পারে। গত কাল রাতেই যুদ্ধকালীন তৎপরতার সাথে হেলিপ্যাড তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। তবে, শেষ মুহূর্তে আবহাওয়া খারাপ হলে মুখ্যমন্ত্রী যে সড়কপথেও আসতে পারেন, তেমন আশঙ্কাও থাকছে। এই বিষয়ে এদিন সবংয়ের বিধায়ক অমল পন্ডা বলেন, ‘বন্যা-বিপর্যস্ত সবংয়ের পরিস্থিতি স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করতে আমাদের মুখ্যমন্ত্রী আসছেন। এটাই সবথেকে বড় কথা।’ জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণা জানিয়েছেন, ‘ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে।’ জেলা পুলিশ সুপার বলেন, ‘আমরা সবং বাসীর পাশে আছি। স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীও আসছেন। তাঁর নিরাপত্তার সমস্ত ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা হয়েছে।’

অন্যদিকে সবং এ মুখ্যমন্ত্রী আসার আগেই সবংয়ে বন্যা পরিস্থিতির মধ্যেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হল এক যুবকের। মৃতের নাম কার্তিক হাজরা (২৮)। তাঁর বাড়ি সবংয়ের দুবরাজপুর এলাকায়। বুধবার বিকেলে স্থানীয় একটি মাছের ভেড়িতে থাকা ট্রান্সফর্মারে কাজ করার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে।।প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, এদিন বিকেল সাড়ে ৩টা নাগাদ ট্রান্সফর্মারে কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন কার্তিক। দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে সবং গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।উল্লেখ্য, গত রবিবার, ১৬ আগস্ট, বন্যাবিধ্বস্ত সবংয়ে এক শিশু ও এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়।বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ।

সবংয়ের বাসিন্দা খোকন দাস, নিতাই মণ্ডলদের অভিযোগ, অবৈধ ইটভাটা এবং মাছের ভেড়ির পাশাপাশি বিভিন্ন জায়গায় বেআইনিভাবে বাঁধ দেওয়ার কারণেও জল নিকাশি বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে। তাঁদের দাবি, এর জেরেই বিস্তীর্ণ এলাকায় প্লাবন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।


Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *