Ramlal Songs: ‘হাতি আসছে দলে দলে, জীবনটা মরছে ডরে’ রামলালের কাছে গান গেয়ে গ্রামে এবং গ্রামবাসীদের ক্ষতি না করার আবেদন বৃদ্ধার

Share

নয়াবসত 30 সে সেপ্টেম্বর :

রামলাল এর কাছে আর্জি রইলো গানের মধ্য দিয়ে,’যেন গ্রামে হামলা না চালায়, ক্ষয়ক্ষতি না করে এবং গ্রামবাসীদের আহত না করে’ এবার গানে গানে রামলাল কে সেই বার্তায় বুঝালেন বৃদ্ধা। যদিও বৃদ্ধার গানের মর্ম বুঝতে পেরে টু শব্দটা করল না রামলাল।

এবার জঙ্গলের দাঁতাল হাতিদের না পেয়ে জঙ্গলের মানুষ প্রিয় রামলাল এর কাছেই হামলা না চালানোর এবং গ্রামবাসীদের ক্ষয়ক্ষতি না করার আর্জি জানালো এক বৃদ্ধা তাও আবার গানের মধ্য দিয়ে। যা রীতিমতো নাম কুড়িয়েছে গ্রামবাসীদের মধ্যে। ঘটনাটি মেদিনীপুর রেঞ্জ নয়া বসত চোরকোল সিদাডিহি বীর শিশির বাঁধ এলাকার। মূলত পশ্চিম মেদিনী পুরের পিড়াকাটা,গড়বেতা,শালবনী, চাঁদড়া, ধেড়ুয়া, এনায়েতপুর, গুড়গুড়ি পাল সহ খোদ মেদিনীপুরেও হাতির তাণ্ডব এবং হাতির দ্বারা ক্ষয়ক্ষতি অব্যাহত। ৩০-৪০ টি হাতির একটি দল প্রায় সময় গ্রামে ঢুকে ফসলের যেমন ক্ষতি করে, সেই সঙ্গে গ্রামবাসীদের পিষেও মেরে ফেলে। বহুবার ছাতু তুলতে গিয়ে এবং জমির কাজ করতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন গ্রামবাসীরা সেই সংখ্যাটাও কম নয়। এইজন্য বারে বারে হুলা পার্টি, বনদপ্তর তারা গ্রামবাসীদের নিয়ে এই হাতি তাড়িয়ে থাকে গ্রাম্য এলাকা থেকে। কিন্তু তারপরও দফায় দফায় জঙ্গল থেকে লোকালয়ে হয়ে চলে আসে এই বুনো হাতির দল।

আর এই নিয়ে গ্রামবাসীদের মধ্যে একরাশ যেমন ক্ষোভ থাকে সেই সঙ্গে এই হাতি তাড়ানোর জন্য বনদপ্তরের বিরুদ্ধে থাকে অভিযোগ। অন্যদিকে জঙ্গলের প্রিয় রামলাল। যে রামলাল কে এলাকার মানুষ তাদের পোষা হাতি হিসেবে মনে করে। এই রামলালের নামকরণও করেছে এলাকার মানুষজন। রামলাল এর কাজই হলো রাস্তায় যাতায়াতকারী গাড়ি আটকে তাদের কাছ থেকে খাবার আদায় করা। সেইসঙ্গে গ্রামের লোকালয়ে প্রবেশ করে গ্রামবাসীদের কাছে খাবার চেয়ে নেওয়া। রামলালের বিচরণ ভূমি হল পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রাম সহ জঙ্গলমহল এলাকা। যদিও সম্প্রতি রামলাল খুব অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। এরপর গ্রামবাসী এবং বনদপ্তরের চেষ্টায় তাকে সুস্থ করা হয়। কারণ রামলাল এতটাই প্রিয় জঙ্গলমহলে মানুষের কাছে যে তার অসুস্থ তারা মেনে নিতে পারেনি তারা। এরপর কিছু গ্রামবাসী বনদপ্তর খাবার দিয়ে ওষুধ দিয়ে তাকে সুস্থ করে।

আর সুস্থ হওয়ার পর ফের লোকালয়ে হাজির হয় রামলাল। তাকে ঘিরে এলাকার মানুষের উৎসাহ ছড়িয়ে পড়ে। এই দিনও নয়াবসত চোরকোল সিদাডিহি বীর শিশির বাঁধ এলাকায় যখন রামলাল আসে লোকালয়ে তখন অতি উৎসাহী মানুষজন তার কে যেমন ঘিরে ধরে সেই সঙ্গে তাকে খাবারও দেওয়া হয়। যদিও এই পরিস্থিতিতে এক বৃদ্ধা নিজেকে সংযত না করতে পেরে রামলালের কাছে আবেদন করে গানের মধ্য দিয়ে। যার বিষয় বস্তুই হল,’ গ্রামে বারে বারে হামলা চালানো সহ গ্রামবাসীদের ক্ষয়ক্ষতি থেকে যেন বিরত থাকে রামলাল।’ সেই সঙ্গে বনদপ্তরের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দেন এই বৃদ্ধা। তার গানের মর্ম ছিল ‘বনে জঙ্গলে বাড়ছে হাতির উৎপাত, তাকে খেদাই বার ব্যবস্থা করো বনের অফিসার’ সেই সঙ্গে ‘হাতি আসছে দলে দলে, জীবনটা মরছে ডরে’। যা নিয়ে এলাকাবাসীও সাথ দিয়েছেন এই বৃদ্ধার সঙ্গে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এই বনজঙ্গলে যেমন একদিকে গ্রামবাসীরা মারা যাচ্ছে হাতির আক্রমণে ঠিক অন্যদিকে হাতিও মারা যাচ্ছে বিভিন্ন প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং ইলেকট্রিক শকে। সম্প্রতি পিড়াকাটাতে বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে মারা যায় দুই হস্তি শাবক সহ একটি মা হাতি। যেই ঘটনায় ইতিমধ্যে তদন্ত করেছে বনদপ্তর। অবৈধভাবে ইলেকট্রিক এলাকায় নিয়ে যাওয়া নিয়েও তোলা হয়েছে অভিযোগ।

যদিও এ বিষয়ে এলাকার রামু দূলে বলেন,’ আমাদের এই এলাকা জুড়ে হাতির তাণ্ডব সবসময় চলতেই থাকে। কি গ্রীষ্মকাল কি শীতকাল। বরং শীতকালে বেশি তাণ্ডব চলে। যার জন্য বহু মানুষের মৃত্যু হবে, ক্ষতি হয় ফসলের। এই নিয়ে বহুবার আমরা বনদপ্তরের কাছে আবেদন নিবেদন করেছি পর্যাপ্ত তেল দেওয়ার জন্য যাতে হাতি তাড়ানো যায়। কিন্তু তা সম্ভব হয়নি।তাই এই মহিলা একপ্রকার রাগে খুবই দুঃখেই এই গান গেয়ে ফেলেছেন। আমরা ওনার পাশে রয়েছি।

একই মন্তব্য এলাকার সমু মান্ডির। তিনি বলেন আগামী দিনে এই হাতির তাণ্ডব নিয়ে আমরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে দরবার করব। আমরা চাই এভাবেই গান গেয়ে পোস্টারিং মধ্য দিয়ে হাতির তাণ্ডব যাতে কমানো যায়।


Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *