Sumit Ray : ‘অন্যের সিম নিয়ে একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে ট্রানজাকশন সুমিত রায়ের,যার বেশিরভাগটাই ছিল কালীঘাটের আশেপাশের! ফের দুদিনের পুলিশি হেফাজত

Share

মেদিনীপুর কোর্ট 3 রা অক্টোবর :

ন’ দিনের পুলিশি হেফাজতের পর ফের আবার নতুন করে সুমিত রায় কে দু দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিল মেদিনীপুর আদালত। মূলত অভিষেকের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে নতুন করে সালবনী থানায় অভিযোগ হয়েছে বালি ব্যবসায়ীর কাছে প্রোটেকশন মানি এবং জালিয়াতি ও প্রতারণার।

ফের সুমিত রায় কে ২ দিনের দুদিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিল মেদিনীপুর আদালত।বালি ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রটেকশন মানি নেওয়া এবং জালিয়াতি প্রতারণার অভিযোগে ইতিমধ্যেই সুমিত রায় কে ৯ দিনের পুলিশ হেফাজতে পেয়েছিল শালবনি থানার পুলিশ। ৯ দিনের পুলিশ হেফাজত শেষ হওয়ার পর আজ সুমিত রায় কে আদালতে পেশ করা হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয় এই ৯ দিনে অনেক তথ্য উঠে এসেছে। সুমিত রায় যে মোবাইল ব্যবহার করত তাতে নিজের সিম ছাড়াও আরেকটি সিম ব্যবহার করত যা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন লোকের নামে রয়েছে। যে সিমগুলির মালিক সবই কালীঘাটের আশেপাশে এলাকার মানুষের। তাদেরকে চিহ্নিতকরণ করা হয়েছে। তাদের সাথে কথা বলা প্রয়োজন এবং সুমিত রায়কে তাদের সাথে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করার প্রয়োজন রয়েছে। তাই পুলিশ আদালতের কাছে নুতুন করে ৪ দিনের পুলিশ হেফাজতের দেওয়ার আবেদন জানায়। পাল্টা সুমিত এর আইনজীবী বিরোধিতা করে জামিনের আবেদন করে।বিচারক দুপক্ষের বক্তব্য শুনে সুমিত রায় কে দুদিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেয়।

উল্লেখ্য, তৃণমূল সরকার বদলের পর রাজ্যে ক্ষমতায় আসে বিজেপি সরকার, মুখ্যমন্ত্রী হন শুভেন্দু অধিকারী।আর সরকার বদলের পরে গত ৫ই জুন শালবনীর বাসিন্দা শেখ ইমরান এই মর্মে অভিযোগ করেন যে জমি বিক্রির নাম করে তৎকালীন তৃণমূলের জেলা সভাপতি তথা বিধায়ক সুজয় হাজরা তার কাছ থেকে ১০ লক্ষ টাকা নেয়। তিনি এও অভিযোগ করেন, বারবার বলা সত্ত্বেও তিনি চুক্তিপত্র বা কোন এগ্রিমেন্ট সই করেনি তৎকালীন তৃণমূলের জেলা সভাপতি তথা প্রাক্তন বিধায়ক। বারবার বলা সত্বেও টাকা ফেরত দেয়নি তৃণমূলের এই নেতা। অভিযোগকারীর এও দাবি, এই নিয়ে বারবার কথা বলতে গেলে তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।যদিও পরবর্তীকালে তিনি জানতে পারেন তাকে যে জমিগুলো বিক্রি হয়েছে সেগুলোর রায়ত নয়, সেগুলো সরকারি জমি,তাকে ভুল কাগজ দিয়ে বিক্রি করেছে তৃণমূলের জেলা সভাপতি। জমির রেকর্ড পরিবর্তন করে তাকে বিক্রি করেছিল তৃণমূলের এই নেতা।

যদিও পালা বদলের পরেই শালবনি থানায় অভিযোগ জানান শালবনির বাসিন্দা ইমরান খান। তারপরেই পুলিশ তদন্তে নেমে তৃণমূল নেতা সুজয় হাজরাকে খড়্গপুর রেল স্টেশন থেকে গ্রেফতার করে। এরপরেই সুজয়কে জেরা করে নাম উঠে আসে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের। এরপর তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। অবশেষে গত ১০ ই সেপ্টেম্বর কলকাতা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে সুমিত রায়কে। এরপরে ১১ ই সেপ্টেম্বর তাকে মেদিনীপুর আদালতে তোলা হয় এই শালবনী জমি দুর্নীতি মামলায়। যেই ঘটনায় একের পর এক সিআইডি হেফাজতের নির্দেশ দেয় মেদিনীপুর আদালত। যদিও পরবর্তীকালে এই জমির দুর্নীতিতে জমি দেখানো, টাকা পৌঁছানো সহ একাধিক কারসাজিতে যুক্ত আরও তিন লিংক ম্যানকে ধরে সিআইডি।শালবনি জমি দুর্নীতি মামলায় নাম জড়িয়েছে প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরা ঘনিষ্ঠ তিনজন লিঙ্ক ম্যান। তারা হলেন অমিত ঘোষ, নিত্যানন্দ রায় এবং লক্ষীকান্ত ভূঁইয়া। যদিও এই পরিস্থিতির মধ্যে সিআইডি অমিত ঘোষ নামে এক লিঙ্ক ম্যানকে নিয়ে সালবনিতে যান সেই জমি কিভাবে বিক্রি হত কাদের মাধ্যম দিয়ে তার খতিয়ে দেখতে। অন্যদিকে ৯ দিনের সিআইডি হেফাজতের পর এই দিন ফের মেদিনীপুর আদালতে তোলা হয় এই অভিষেকের আপ্ত সহায়ক সুমিতকে।

এই বিষয়ে এদিন সরকারি আইনজীবী নাজিম হাবিব বলেন,’আজকে ন’দিনের পুলিশের হেফাজত শেষ হয় এবং আবার নতুন করে সিআইডি চার দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন করে কিন্তু বিচারক দুদিনের পুলিশেই হেফাজতে নির্দেশ দেয়। এদিন আইনজীবী এও বলেন গত ন’দিনের সিআইডি হেফাজতে এই সুমিতরাই অনেক কিছু গোপন কথা বলেছেন। যেখানে তিনি বলেছেন তিনি একাধিক সিম ইউজ করতেন যেটা অন্য লোকের। সেই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেছেন টাকা ট্রানজাকশনের কথা। যদিও যাদের সঙ্গে তিনি ট্রানজাকশন করতেন বা কথা বলতেন তার বেশিরভাগ ঠিকানা কালীঘাট এর কাছে। এখন তদন্তে এবং ইন্টারগেশনে এটাই বলার ব্যাপার আছে যে এই সিমগুলি তাকে সুমিত রায় ভয় দেখিয়ে নিয়েছিলেন না স্বেচ্ছায় দিয়েছিলেন। কারণ যতগুলো সিম তিনি ব্যবহার করতেন তার বেশিরভাগটা এখনো একটিভ রয়েছে। তাই তাদেরকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করার ব্যাপার রয়েছে।”


Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *