Manas Ranjan Bhunia : চাকরি দেওয়ার নামে পাঁচ লক্ষ টাকা নেওয়ার অভিযোগ প্রাক্তন মন্ত্রী মানস ভূঁইয়ার নামে! দেখা নেই মন্ত্রীর

Share

সবং 18 ই জুন :

এবার টাকা নিয়ে চাকরি দেওয়ার নামে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ উঠল সবং এর প্রাক্তন মন্ত্রী মানস রঞ্জন ভূঁইয়ার নামে। সবং এর এক দম্পতি অভিযোগ করেন তার স্ত্রীকে চাকরি দেওয়ার নামে ৫ লক্ষ টাকা নিয়েছেন মন্ত্রী ও তার সাঙ্গ পাঙ্গরা। এই ঘটনায় শোরগোল এলাকা জুড়ে। যদিও মানস ভুঁইয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন ৫৬ বছরের রাজনৈতিক জীবনে কোন দুর্নীতি করেন নি।

এবার FIR হল প্রাক্তন মন্ত্রী মানস রঞ্জন ভূঁইয়ার নামে যা নিয়ে সর গোল সবং এলাকায়। মূলত এতদিন ধরে রাজনৈতিক মহলে কানাঘুষো শোনা যাচ্ছিল যে প্রাক্তন মন্ত্রী মানুষ ভূঁইয়ার নামে অভিযোগ কবে হবে? কারণ এই মানস রঞ্জন ভূইয়া একসময় কংগ্রেসে থেকে জোট সঙ্গী সিপিএমের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। পরবর্তীকালে সবংয়ে ছাত্র খুনে তার নাম জড়িয়ে যায়। সেই ঘটনায় তিনি গ্রেফতার হওয়ার মুখে বাঁচার জন্য তৃণমূলে যোগ দিয়ে তিনি মন্ত্রিত্ব পান। এতদিন দাপিয়ে বেড়াচ্ছিলেন এলাকা জুড়ে। কিন্তু ছাব্বিশে সেই মানস বাবু পরাজিত হন প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপি প্রার্থী অমল পন্ডার কাছে।আর তিনি পরাজিত হওয়ার পরই তার মুখে উল্টো সুর। সম্প্রতি তিনি এক সাংবাদিক বৈঠক করে বলেছিলেন শুভেন্দু জেলার ছেলে,ভালো ছেলে। সেই সঙ্গে তৃণমূলের পদ থেকে পদত্যাগ পত্র পাঠিয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে।

এবার সেই মন্ত্রীর নামেই চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগ উঠল। সবং এ এক দম্পতি অভিযোগ করেছেন যে তার স্ত্রীকে একটি সংস্থায় চাকরি দেওয়ার নামে পাঁচ লক্ষ টাকা নেন মন্ত্রী খোদ নিজে এবং তার দু একজন সাঙ্গপাঙ্গরা। কিছুদিন চাকরি করে টাকা ও পান সেই সংস্থা থেকে। এরপর কোন কারণ ছাড়াই তাকে সংস্থা থেকে বাদ দেওয়া হয়, যার ফলে ক্ষুব্ধ হন এই দম্পতি। তিনি এই ঘটনার প্রেক্ষিতেই তার স্ত্রীর মানসিক ও শারীরিক অবস্থা খারাপের জন্য দায়ী করেন মন্ত্রীকে। এরপর পালা বদলের পর মন্ত্রীর বিরুদ্ধে তিনি সবং থানার দ্বারস্থ হন এবং অভিযোগ করে বসেন। যা নিয়ে রীতিমতো শোরগোল জেলা জুড়ে। সম্প্রতি মানস ভূঁইয়ার দেখা মিলছে না সবং এলাকায়, ফোন করলে ফোন ধরেন না। তবু তিনি এক সংবাদ মাধ্যমের বিবৃতি দেন যে দীর্ঘ ৫৬ বছর রাজনৈতিক জীবনে তিনি কারো কাছে এক টাকাও নেননি এবং কোন তার বিরুদ্ধে অভিযোগ নেই। বরং তিনি এলাকার নব্য নির্বাচিত বিধায়ক কে উল্লেখ করে বলেন এলাকার বহু কাজ করতে তিন সচেষ্ট হয়েছেন, যেটা এখন কারের নির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক অমল পন্ডা জানেন।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, তৃণমূলের এই ডাকাবুকো নেতা মন্ত্রী একসময় কংগ্রেসের প্রভাবশালী মন্ত্রী এবং সভাপতি ছিলেন জেলায়। কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করে ২০১১ সালে বামফ্রন্ট কে হটিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যে ক্ষমতায় আসে। তখন মানসবাবু প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি ছিলেন। পরে সেই জোটে ভাঙন ধরে। তৃণমূলের বিরুদ্ধে একের পর এক তোপ দেগে গেছেন এই কংগ্রেস নেতা মানস রঞ্জন ভূঁইয়া তৎকালীন সময়ে। এরপর পশ্চিম মেদিনীপুরের সবং এ এক রাজনৈতিক ঘটনায় তার নাম যুক্ত হওয়ায় অবশেষে পুলিশে অভিযোগ হওয়ার পরে গ্রেপ্তার হওয়ার আশঙ্কায় তিনি মমতার সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং তৃণমূলে ঢুকে পড়েন। তৃণমূলে ঢোকার পরে তিনি কংগ্রেসকে বেনজির আক্রমণ করেন। এরপর তৃণমূল তাকে মন্ত্রী বানায়,রাজ্যসভার সদস্যও করে।

এতদিন ধরে তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে এক একাধিক মন্তব্য করে আসছেন এবং এলাকায় একাধিক মামলা দিয়েছেন বিজেপি নেতা কর্মীর বিরুদ্ধে। কিন্তু ২০২৬ সালে পালাবদলের পর ফের বেসুরো হয়ে উঠেছেন এই ডাকাবুকো তৃণমূল নেতা। দলের ভরাডুবিতে তিনি তৃণমূল নেত্রীকে পদত্যাগ পত্র পাঠিয়ে তৃণমূল ছেড়ে দিয়েছেন।এখন কানাঘুষ শোনা যাচ্ছে তিনি নাকি বিজেপিতে যোগ দেবেন বড় নেতার হাত ধরে। যেই ঘটনার প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন বিজেপি মন্ত্রী তথা বিজেপির সর্বভারতীয় নেতা দিলীপ ঘোষ। সম্প্রতি বিজেপি মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেছেন,” দলের প্রেসিডেন্ট দরজায় বড় তালা লাগিয়ে দিয়েছে।”


Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

dnews.in