
মেদিনীপুর 18 ই জুন :
দীর্ঘ দিন ধরে সাসপেন্ড হয়েছিলেন তিনি অবশেষে সেই সাসপেনশন প্রত্যাহার করল স্বাস্থ্য দপ্তর। সেইসঙ্গে স্বাস্থ্য দপ্তর ঘোষণা করল প্রাক্তন HOD মহম্মদ আলাউদ্দিন ২০২৫-এর ১৬ জানুয়ারি থেকে ২০২৬-এর ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত সাসপেন্ড ছিলেন, সেই সময়টাকে ‘কর্তব্যরত সময়কাল’ হিসেবে ধরা হবে। ফলে এই সময়ের জন্য তিনি পূর্ণ বেতন ও ভাতা পাওয়ার অধিকারী।’

গত বছর জানুয়ারি মাসের শুরুতে ভেজাল স্যালাইন কাণ্ডে প্রস্তুতি মৃত্যু নিয়ে উত্তাল হয়ে ওঠে মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ। সেই ঘটনায় দুই প্রসূতির মৃত্যু হয় মারা যায় দুই সদ্যোজাত। এই ঘটনার তদন্তভাবে দেওয়া হয় সিআইডি কে। সাসপেন্ড করা হয় তৎকালীন সময়ের মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজের HOD স্ত্রী রোগ বিভাগের প্রাক্তন প্রধান চিকিৎসক মহম্মদ আলাউদ্দিন কে। যদিও এরপরে তিনি অবসর গ্রহণে যাবতীয় কাগজপত্র জমা দেন মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপাল মৌসুমী নন্দীর কাছে। সেই ঘটনার বছর ঘুরতেই মহম্মদ আলাউদ্দিনের উপর থেকে সাসপেনশন প্রত্যাহার করল স্বাস্থ্য দপ্তর। মূলত ২০২৫-এর ১৬ জানুয়ারি এই ঘটনায় আলাউদ্দিনকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল। গত ৩১ জানুয়ারি তিনি অবসর নিয়েছেন। স্বাস্থ্য দপ্তর সাসপেনশন প্রত্যাহারের পাশাপাশি ওই সময়ে তাঁকে অন ডিউটি দেখানোর কথা জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য দপ্তর জানিয়েছে, মহম্মদ আলাউদ্দিন যে ২০২৫-এর ১৬ জানুয়ারি থেকে ২০২৬-এর ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত সাসপেন্ড ছিলেন, সেই সময়টাকে ‘কর্তব্যরত সময়কাল’ হিসেবে ধরা হবে। ফলে এই সময়ের জন্য তিনি পূর্ণ বেতন ও ভাতা পাওয়ার অধিকারী। পাশাপাশি অবসরকালীন পেনশন এবং যাবতীয় সরকারি সুবিধাও পাবেন। এই ঘটনা জানার পর বাকিদের মনেও আশা জেগেছে যে, আবার হয়তো ভেজাল স্যালাইন কান্ডের তদন্ত ফের শুরু হবে। সামনে উঠে আসবে সত্য। ছুটিতে থাকা ভাইস প্রিন্সিপাস-সহ যে ক’জন এখনও সাসপেন্ড হয়ে রয়েছেন তাঁরাও এ বার সুবিচার পাবেন। ২০২৫-এর ৮ জানুয়ারি মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে খারাপ মানের স্যালাইন ব্যবহার করায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন সাত প্রসূতি। পরে দুই প্রসূতি মারা যান। ঘটনায় ১২ জন চিকিৎসককে সাসপেন্ড করেছিল স্বাস্থ্য দপ্তর। ঘটনার তদন্তভার দেওয়া হয় সিআইডিকে।

উল্লেখ্য, গত বছর ৮ জানুয়ারি ৫ প্রসূতির সিজারের পর অভিযোগ ওঠে স্যালাইন কাণ্ডে অসুস্থ হয়ে পড়েছে প্রসূতির। আইসিইউ তে রাখা হলেও ১০ জানুয়ারি মৃত্যু হয় মামনি রুইদাস নামে এক প্রসূতির। তারপরেই রাজ্য সরকার এক্সপার্ট কমিটি গঠন করে সেই কমিটি তদন্তেও আসে। তদন্ত শুরু করে সিআইডি। তারপরেই ৭ পিজিটি সহ ১৩ জন চিকিৎসককে সাসপেন্ড করে রাজ্য স্বাস্থ্য ভবন। জুনিয়র চিকিৎসকদের আন্দোলনের পরে ওই ৭ পিজিটি সাসপেন্ড প্রত্যাহার হয়। তিন প্রসূতিকে কলকাতায় এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সুস্থ হয়ে ওঠেন তারা, তবে ১১ মে মৃত্যু হয় নাসরিন খাতুন নামে আর এক প্রসূতির।অন্যদিকে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আর এক প্রসূতির রেখা সাউ সুস্থ হয়ে উঠলেও তার সদ্যজাতের মৃত্যু হয় গত ১৬ জানুয়ারি। এই ঘটনায় তোলপাড় হয় মেডিক্যাল কলেজ।

এই ঘটনায় তদন্তে প্রসূতি বিভাগের প্রধান হওয়ার কারণে মহম্মদ আলাউদ্দিন সাসপেন্ড হন। সেই সঙ্গে অফিসিয়ালি ছুটি নিয়ে রাজ্যের বাইরে ছিলেন তৎকালীন এমএসভিপি জয়ন্ত কুমার রাউত। ঘটনার পরেই ফিরে আসেন হাসপাতালে। তাকেও সাসপেন্ড হতে হয়। এরপর অবসর নেন এই চিকিৎসক। তৎকালীন সময়ে মেদিনীপুর কলেজের প্রিন্সিপাল মৌসুমীর নন্দীর কাছে অবসরের যাবতীয় কাগজপত্র তুলে দিয়ে যান।