
মেদিনীপুর 19 ই জুন :
TET সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা নিষ্পত্তির জন্য সংসদে অর্ডিন্যান্সের দাবীতে প্রধানমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী কে উদ্দেশ্য করে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার DM অফিসে ডেপুটেশন দিল অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসঙ্ঘ (ABRSM) বিদ্যালয় শিক্ষা পশ্চিমবঙ্গ এর পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা।

এইদিন এই ডেপুটেশনে ABRSM, পশ্চিমবঙ্গ (বিদ্যালয় শিক্ষা)-র পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের জেলা সভাপতি সম্মানীয় দেবাঞ্জন হোড় সম্পাদক বিশ্বজিৎ মন্ডল,কোষাধ্যক্ষ সুস্মিত হাজরা মহাশয়, রাজ্য কমিটির সদস্য বিশ্বনাথ দা , বিভাগীয় সহ প্রমুখ স্বর্ণলতা বেরা, জেলা মহিলা প্রমুখ ও সহ সভাপতি নিলাঞ্জনা সেন,জেলা কমিটির সহ সম্পাদিকা কাকলি খান, মিডিয়া টোলির প্রমুখ ও জেলা কমিটির সদস্য নিতাই সাঁতরা,জেলা সহ সম্পাদক ও জেলা মিডিয়া টোলির সহ প্রমুখ দেবদাস মাঝি সহ জেলা কমিটির সমস্ত সম্মানীয় সদস্য- সদস্যা সহ পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ৫২ টি সার্কেল স্তরের দুই শতাধিক কার্যকর্তা।এইদিন সংগঠনের পক্ষ থেকে দশ জনের একটি প্রতিনিধি দল ডিএম অফিসে প্রবেশ করেন। জেলা শাসকের অনুপস্থিতিতে অতিরিক্ত জেলাশাসক ড. সুকান্ত সাহা এর সাথে দেখা করে স্মারকলিপি প্রদান করেন।

সাংবাদিকের প্রশ্ন উত্তরে জেলা সভাপতি সম্মানীয় দেবাঞ্জন হোড় বলেন,”সুপ্রিম কোর্ট এর রায় অনুযায়ী ভারতবর্ষের প্রাথমিক (১ম থেকে ৫ম শ্রেণী) এবং উচ্চ প্রাথমিক (৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণী) স্তরে কর্মরত সকল শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জন্য প্রশিক্ষিত যোগ্যতা মান অনুসারে TET পাশ করা বাধ্যতামূলক বলা হয়েছে। মহামান্য সুপ্রিম কোর্ট এর সাম্প্রতিক রায় অনুসারে বর্তমানে চাকরিরত TET পাশ নয় এমন শিক্ষকদের জন্য TET পাশ করার সর্বশেষ সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩১ আগস্ট, ২০২৮। এই আইনের সবচেয়ে ভয়ংকর দিকটা হলো যদি কোনো কর্মরত শিক্ষক (যাঁদের ৫ বছরের বেশি চাকরি বাকি) TET পাশ করতে না পারেন, তবে তাঁদের বাধ্যতামূলক অবসর (Compulsory Retirement) দেওয়া হতে পারে।

শুধুমাত্র প্রবীণ শিক্ষক-শিক্ষিকাদের, যাদের বয়স ৫৫ বছরের ঊর্ধ্বে অথবা যাঁদের অবসর নিতে ৫ বছরের কম সময় বাকি রয়েছে, কেবল তাঁদের ক্ষেত্রেই TET পাশ করার নিয়ম থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছে।” অন্যদিকে জেলা সভাপতি বিশ্বজিৎ মন্ডল উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বহু বছর ধরে কর্মরত অভিজ্ঞ শিক্ষকদের উপর হঠাৎ করে TET চাপিয়ে দেওয়া অন্যায্য। এতে শিক্ষার ধারাবাহিকতা ব্যাহত হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, কেন্দ্রীয় সরকারকে জরুরি ভিত্তিতে হস্তক্ষেপ করতে হবে এবং আপাতত অর্ডিন্যান্স এনে ও পরবর্তীতে আইন পরিবর্তনের মাধ্যমে সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে হবে।জেলার জেলা সম্পাদক বিশ্বজিৎ মন্ডল বলেন যে, এই সিদ্ধান্ত সারা ভারতবর্ষ জুড়ে প্রায় কুড়ি লক্ষ এবং শুধু পশ্চিমবঙ্গেই ৯০ হাজার শিক্ষকের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলবে। যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিযুক্ত শিক্ষকরা এখন নিরাপত্তাহীনতার সম্মুখীন হবেন, যা শিক্ষকদের মনোবল ভেঙে দেবে এবং সামগ্রিকভাবে শিক্ষা ব্যবস্থার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

এই বিষয়ে বিগত দিনের কর্মসূচির কথা উল্লেখ করতে গিয়ে তিনি বলেন ১লা সেপ্টেম্বর ২০২৫ সুপ্রিম কোর্টের প্রথম রায় ঘোষণা হবার পর আমরা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী এবং NCTE এর চেয়ারম্যানের সাথে দেখা করে বিষয়টির সুদূরপ্রসারী ক্ষতিকারক দিক সম্পর্কে আলোকপাত করি। ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৫ সারা রাজ্যের প্রত্যেকটি জেলার ডিএম অফিসে ডেপুটেশন কর্মসূচির মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও পশ্চিমবঙ্গের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ২৩শে আগস্ট, ২০১০ ও ২৭শে জুলাই, ২০১১ সালের আগে বিজ্ঞপ্তি অনুসারে ২০০১ সালের নিয়োগ সংক্রান্ত আইন অনুযায়ী নিযুক্ত শিক্ষকদের চাকরির নিরাপত্তা রক্ষার ব্যাপারে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আবেদন জানিয়েছিলাম। ভারতবর্ষের আইনি ইতিহাসে যেদিন থেকে আইন পাশ হয় সেদিন থেকেই লাগু হবার নিয়ম আমরা দেখেছি, কিন্তু HRD মিনিষ্ট্রির ১৭ই অক্টোবর, ২০১৭ এর নোটিফিকেশন অনুযায়ী যেভাবে পূর্বতন আইনে হওয়া নিয়োগের ক্ষেত্রে রেট্রোস্পেকটিভ এফেক্ট দিয়ে যোগ্যতামান যাচাই করা হচ্ছে তা শিক্ষকদের এক চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দিয়েছে।

জেলা সম্পাদক আরো বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম সুপ্রিম কোর্টের রিভিউ পিটিশনের রায় শিক্ষকদের অনুকূলেই আসবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে রায়টি প্রতিকূল হওয়ায় সংগঠনের পক্ষ থেকে সেই দিনই অখিল ভারতীয় সভাপতি নারায়ন লাল গুপ্তাজি সাংবাদিক সম্মেলন করে এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবী তোলা হয়, আগামী বাদল অধিবেশনে এই রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে বিল উত্থাপন করে আইনের পরিবর্তন করা হোক। এই বিষয়ে আবেদন জানিয়ে আজ ১৮ ই জুন, ২০২৬ ভারতবর্ষের প্রতিটি জেলার DM অফিসে দেশের প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে ডেপুটেশন দেওয়া হলো।’